পাতা:রাণী না খুনি? (শেষ অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

রাণী না খুনী?

৩৫


দোকানের ভিতর প্রবেশ করিলাম, ত্রৈলোক্য গাড়ির ভিতরেই বসিয়া রহিল।

 “আমি দোকানের ভিতর প্রবেশ করিয়া দোকানদারকে কহিলাম, ‘একজন রাণী কতকগুলি জহরত ক্রয় করিবেন, আমি তাঁহাকে সঙ্গে করিয়া আনিয়াছি, তিনি দোকানের সম্মুখে গাড়ির ভিতর বসিয়া আছেন। তাঁহাকে ভাল ভাল কতকগুলি জহরত দেখাও, যদি কোন জহরত তাঁহার পসন্দ হয়, তাহা হইলে উনি তাহা নিশ্চয়ই গ্রহণ করিবেন। ইঁহার নিকট কিছু বেচিতে পারিলে, আপনাদিগের বেশ দুই পয়সা লাভ হইবে, আমারও কিছু উপার্জ্জন হইবে। আমার বোধ হয়, উনি নিজে কোন দ্রব্যের মূল্য আপনাদিগকে জিজ্ঞাসা করিবেন না, কেবল দ্রব্য পসন্দ করিয়া দিবেন। দ্রব্য পসন্দ হইলে আমরা তাহার মূল্য যাহা বলিব, তাহাতেই উনি তাহা গ্রহণ করিবেন। কিন্তু আপনাকে আমি পূর্ব্ব হইতেই সতর্ক করিয়া দিতেছি যে, যদি কোন দ্রব্যের মূল্য উনি জিজ্ঞাসা করেন, তাহা হইলে উহার মূল্য সেই সময় যেন খুব অধিক করিয়া বলা হয়।’

 “দোকানদারকে এইরূপ শিখাইয়া দিয়া তাহাকে সঙ্গে লইয়া আমি দোকানের বাহিরে আসিলাম, এবং সেই জুড়িগাড়ির নিকট দাঁড়াইয়া কহিলাম, ‘এই গাড়িতে রাণীজি আছেন, তিনি অনেকগুলি জহরত ক্রয় করিবেন। আপনি এক একটী করিয়া জহরতের বাক্স তাঁহার হস্তে প্রদান করুন, ইহার মধ্যে যদি কোন দ্রব্য রাণীজির পসন্দ হয়, তাহা হইলে তাহার দর স্থির করিয়া দিয়া উহার মূল্য গ্রহণ করিবেন।’ আমার প্রস্তাবে দোকানদার সম্মত হইলেন, এবং এক একটী করিয়া নানা প্রকার জহরতের বাক্স