পাতা:রাধারাণী-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুর্থ খণ্ড ১ সপ্তম পরিচ্ছেদ বা প্রবৃত্তি সকল প্রকাশিত হইয় পড়ে, এবং অত্যন্ত বলবান হইয় উঠে । শচীন্দ্ৰ কদাচিৎ আমাদিগের দৈববিদ্যা সকলের পরীক্ষার্থ হইলে, আমি কোন তান্ত্রিক অনুষ্ঠান রিলাম, তাহাতে যে র্তাহাকে আস্তরিক ভালবাসে, তিনি তাহাকে স্বপ্নে দেখিবেন । শচীন্দ্র রাত্রিযোগে রজনীকে স্বপ্নে দেখিলেন। স্বাভাবিক নিয়ম এই যে, যে আমাদিগকে ভালবাসে বুঝিতে পারি, আমরা তাহার প্রতি অনুরক্ত হই । অতএব সেই রাত্রে শচীন্দ্রের মনে রজনীর প্রতি অনুরাগের বীজ গোপনে সমারোপিত হইল। কিন্তু রজনী অন্ধ, এবং ইতর লোকের কন্য, ইত্যাদি কারণে সে অনুরাগ পরিস্ফুট হইতে পারে নাই। অমুরাগের লক্ষণ স্বহৃদয়ে কিছু দেখিতে পাইলেও শচীন্দ্র তৎপ্রতি বিশ্বাস করেন নাই। ক্রমে ঘোরতর দারিদ্র্যজুঃখের আশঙ্কা তোমাদিগকে পীড়িত করিতে লাগিল। সৰ্ব্বাপেক্ষ শচীন্দ্রই তাহাতে গুরুতর ব্যথা পাইলেন। অন্তমনে, দারিদ্র্যদুঃখ ভুলিবার জন্ত শচীন্দ্র অধ্যয়নে মন দিলেন। অনন্তমনা হইয়া বিদ্যালোচনা করিতে লাগিলেন। সেই বিদ্যালোচনার আধিক্য হেতু, চিত্ত উস্তান্ত হইয়া উঠিল। তাহাতেই এই মানসিক রোগের স্মৃষ্টি। সেই মানসিক রোগকে অবলম্বন করিয়া রজনীর প্রতি সেই বিলুপ্তপ্রায় অনুরাগ পুনঃপ্রফুটিত হইল। এখন আর শচীন্দ্রের সে মানসিক শক্তি ছিল না যে, তদ্বারা তিনি সেই অবিহিত অনুরাগকে প্রশমিত করেন। বিশেষ, পূর্বেই বলিয়াছি যে, এই সকল মানসিক পীড়ার কারণ যে যে গুপ্ত মানসিক ভাব বিকশিত হয়, তাহ অপ্রকৃত হইয় উঠে। তখন তাহ বিকারের স্বরূপ প্রতীয়মান হয়। শচীন্দ্রের সেইরূপ এ বিকার ।” আমি তখন কাতর হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম যে, "ইহার প্রতীকারের কি উপায় হইবে ?” সন্ন্যাসী বলিলেন, “আমি ডাক্তারি শাস্ত্রের কিছুই জানি না। ডাক্তারদিগের দ্বারা এ রোগ উপশম হইতে পারে কি না, তাহ বিশেষ বলিতে পারি না । কিন্তু ডাক্তারের কখন এ সকল রোগের প্রতীকার করিয়াছেন, এমন আমি শুনি নাই ।” আমি বলিলাম যে, “অনেক ডাক্তার দেখান হইয়াছে, কোন উপকার হয় নাই ।” স। সচরাচর বৈদ্যচিকিৎসকের দ্বারাও কোনও উপকার হইবে না । আমি । তবে কি কোন উপায় নাই ? স। যদি বল, তবে আমি ঔষধ দিই। - • আমি । আপনার ঔষধের অপেক্ষা কাহার ঔষধ ? আপনিই আমাদের রক্ষাকৰ্ত্ত । আপনিই ঔষধ দিন ।