পাতা:রাধারাণী-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


éथभ ५७ ६ छङ्कर्ष भनेिटव्हनं $é আমি লবঙ্গের কি করিয়াছি যে, সে আমার উপর এত অত্যাচার করিতে উদ্যত ? ভাবিলাম, খদি সে বড় মানুষ বলিয়া অত্যাচার করিয়াই মুখী হয়, তবে জন্মান্ধ ফুঃখিনী ভিক্ষ, আর কি অত্যাচার করিবার পাত্র পাইল না ? মনে করিলাম—ন, আর একদিন যাইব, তাহাকে এমনই করিয়া তিরস্কার করিয়া আসিব—তার পর আর যাইব না—আর ফুল ৰেচিৰ না—আর তাহার টাকা লইব ন—ম যদি তাহাকে ফুল দিয়া মূল্য লইয়া আসেন, তবে তাহার টাকার অল্প ভোজন করিব না—না খাইয়া মরিতে হয়—সেও ভাল। ভাবিলাম, বলিব, বড় মানুষ হইলেই কি পরপীড়ন করিতে হয় ? বলিব, আমি অন্ধ—অন্ধ বলিয়া কি দয়া হয় না ? বলিব, পৃথিবীতে যাহার কোন সুখ নাই, তাহাকে বিনাপরাধে কষ্ট দিয়া তোমার কি মুখ ? যত ভাবি, এই এই বলিব, তত আপনার চক্ষের জলে আপনি ভাসি। মনে ভয় হইতে লাগিল, পাছে বলিবার সময় কথাগুলি ভুলিয়া যাই । যথাসময়ে আবার রামসদয় বাবুর বাড়ী চলিলাম। ফুল লইয়া যাইব না মনে করিয়াছিলাম—কিন্তু শুধু হাতে যাইতে লজ্জা করিতে লাগিল—কি বলিয়া গিয়া বসিব । পূৰ্ব্বমত কিছু ফুল লইলাম। কিন্তু আজি মাকে লুকাইয়া গেলাম। ফুল দিলাম—তিরস্কার করিব বলিয়া লবঙ্গের কাছে বসিলাম। কি বলিয়া প্রসঙ্গ উত্থাপন করিব ? হরি । হরি ! কি বলিয়া আরম্ভ করিব ? গোড়ার কথা কোনটা ? যখন চারি দিকে আগুন জ্বলিতেছে—আগে কোন দিক্ নিবাইব ? কিছুই বলা হইল না ! কথা পাড়িতেই পারিলাম না। কান্না আসিতে লাগিল । ভাগ্যক্রমে লবঙ্গ আপনিই প্রসঙ্গ তুলিল, “কাণি—তোর বিয়ে হবে।” আমি জলিয়া উঠিলাম। বলিলাম, “ছাই হবে ।” লবঙ্গ বলিল, “কেন, ছোট বাবু বিবাহ দেওয়াইবেন—হবে না কেন ?” আরও জ্বলিলাম। বলিলাম, “কেন, আমি তোমাদের কাছে কি দোষ করেছি ?” লবঙ্গও রাগিল। বলিল, “আঃ মলো ! তোর কি বিয়ের মন নাই না কি ?” আমি মাথা নাড়িয়া বলিলাম, “না।” লবঙ্গ আরও রাগিল, বলিল, “পাপিষ্ঠ। কোথাকার । বিয়ে করবিনে কেন ?” আমি বলিলাম, “খুসি।” লবঙ্গের মনে বোধ হয়, সন্দেহ হইল—আমি ভ্রষ্টা—নহিলে বিবাহে অসম্মত কেন ? সে বড় রাগ করিয়া বলিল, “আঃ মলে । বের বলিতেছি—নহিলে খেঙর মারিয়া বিদায় করিব।”