পাতা:রাধারাণী-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&8 রজনী श्रांभि । श्हेलझे यो ? * ছোট মা । আমি জানি, সে সচ্চরিত্র। আমি । তাহাও স্বীকার করি । ছোট মা । সে পরম সুন্দরী । আমি। পদ্মচক্ষু! ছোট মা। বাবা—যদি পদ্মচক্ষুই খোজ, তবে তোমার আর একটা বিবাহ করিতে কতক্ষণ ? আমি। সে কি মা ! রজনীর টাকার জন্য রজনীকে বিবাহ করিয়া, তার বিষয় লইয়া, তার পর তাকে ঠেলিয়া ফেলিয়া দিয়া আর একজনকে বিবাহ করা, কেমন কাজটা হুইবে ? --- ছোট মা । ঠেলিয়া ফেলিবে কেন ? তোমার বড় মা কি ঠেলা আছেন ? এ কথার উত্তর ছোট মার কাছে করিতে পারা যায় না। তিনি আমার পিতার দ্বিতীয় পক্ষের স্বনিতা, বহুবিবাহের দোষের কথা তাহার সাক্ষাতে কি প্রকারে বলিব ! সে কথা না বলিয়া, বলিলাম,“আমি এ বিবাহ করিব ন—তুমি আমায় রক্ষা কর। তুমি সব পার।” ছোট মা। আমি না বুঝি, এমন নহে। কিন্তু বিবাহ না করিলে, আমরা সপরিবারে অন্নাভাবে মারা যাইব । আমি সকল কষ্ট সহ্য করিতে পারি, কিন্তু তোমাদিগেব অল্পকষ্ট আমি চক্ষে দেখিতে পারিব না। তোমার সহস্ৰ বৎসর পরমায়ু হউক, তুমি ইহাতে অমত করিও না। অামি । টাকাই কি এত বড় ? ছোট মা । তোমার আমার কাছে নহে। কিন্তু যাহার তোমার আমার সর্বস্ব, র্তাহাদের কাছে বটে। সুতরাং তোমার আমার কাছেও বটে। দেখ, তোমার জন্য আমরা তিন জনে প্রাণ দিতেও পারি। তুমি আমাদিগের জন্য একটি অন্ধ কন্যা বিবাহ করিতে পারিবে না ? - বিচারে ছোট মার কাছে হরিলাম। হারিলে রাগ বাড়ে। আমার রাগ বাড়িল । আর মনে মনে বিশ্বাস ছিল যে, টাকার জন্য রজনীকে বিবাহ করা বড় অন্যায়। অতএব আমি দন্ত করিয়া বলিলাম, “তোমরা যাহাই বল না কেন, আমি এ বিবাহ করিব না।” ছোট মাও দম্ভ করিয়া বলিলেন, “তুমিও যাই বল না কেন, আমি যদি কায়েতের মেয়ে হই, তবে তোমায় এ বিবাহ দিবই দিব।”