পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৯৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৪১
নবম পরিচ্ছেদ।

হরিশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়। তাঁহার পশ্চাতে রামগোপাল ঘোষ, দিগম্বর মিত্র, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রভৃতি নব্যবঙ্গের তদানীন্তন নেতা ও ডিরোজিও শিষ্যদলের অগ্রণী ব্যক্তিগণ উৎসাহদাতারূপে ছিলেন। কাহার, কাহারও মুখে এইরূপ ক্ষোভের কথা শুনিতে পাই যে রামগোপাল ঘোষ প্রভৃতিই দরিদ্র ব্রাহ্মণের সন্তান হরিশকে সুরাপানে লিপ্ত করিয়াছিলেন। এ অপবাদ কতদূর সত্য তাহা জানি না; তবে তাহারা যে হরিশের পৃষ্ঠপোষক, উৎসাহদাতা, ও পরামর্শদাতা ছিলেন তাহাতে সন্দেহ নাই। বলা বাহুল্য যে লাহিড়ী মহাশল্পও এই উৎসাহদাতা বন্ধুদিগের মধ্যে একজন ছিলেন। মিউটনীর হাঙ্গামা উপস্থিত হইবার সময়ে আমরা তাঁহাকে বারাসতে রাখিয়া আসিয়াছি। বারাসত হইতে তিনি ১৮৫৮ সালে দ্বিতীয় বার কৃষ্ণনগর কলেজে যান।

 কৃষ্ণনগর হইতে ১৮৫৯ সালে কলিকাতার দক্ষিণবৰ্ত্তী রসাপাগলা নামক স্থানে টিপু সুলতানের বংশীয়দিগের শিক্ষার জন্য স্থাপিত ইংরাজী স্কুলে দ্বিতীয় শিক্ষক হইয়া আসেন। টিপু সুলতান নিহত হইলে ইংরাজগণ যখন তাহার বংশীয়দিগকে বন্দী করিয়া আনেন, তখন তাঁহাদিগকে অযোধ্যার নবাবের ন্যায় কলিকাতার উপকণ্ঠেই রাখা স্থির করেন। তদনুসারে রসাপাগলা নামক স্থানে তাঁহাদের উপনিবেশ স্থাপন করা হয়। ইহাদিগকে রসাতে স্থাপন করিয়াই গবর্ণমেণ্ট ইহাদের বংশধরগণের শিক্ষার উপায় বিধানার্থ অগ্রসর হন। মহা সমারোহে এক ইংরাজী স্কুল স্থাপিত হয়। যে সময়ে লাহিড়ী মহাশয় সেখানে দ্বিতীয় শিক্ষকরূপে গমন করেন, তখন মিঃ স্কট্ নামে একজন ইংরাজ হেড মাষ্টার ছিলেন। সে সময়ে যাঁহারা রসাপাগলা স্কুলে লাহিড়ী মহাশয়ের নিকট পাঠ করিয়াছিলেন, তাঁহাদের মুখে শুনিয়াছি যে, প্রথম শ্রেণীর ইতিহাস, ভূগোল প্রভৃতি পড়াইবার ভার তাঁহার প্রতি ছিল; সেই সকল বিষয় তিনি এমন সুন্দররূপে পড়াইতেন ষে ছাত্রগণ মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় থাকিত। তাঁহার ভূগোল পাঠনার রীতির বিষয় পূৰ্ব্বেই উল্লেখ করিয়াছি। ছাত্রেরা বুঝুক, না বুঝুক, ভালবাসুক, না বাসুক, তাহাদের মস্তিষ্কে কতকগুলি জ্ঞাতব্য বিষয় প্রৰিষ্ট করাইয়া দিতেই হইবে, এ রীতিকে তিনি অন্তরের সহিত ঘৃণা করিতেন। তিনি যে বিষয় ছাত্রদিগকে শিখাইতে যাইতেন, সে বিষয়ে আগে তাহাদের কৌতুহল জন্মাইবার চেষ্টা করিতেন। তৎপ্রসঙ্গে নানা কথা বলিয়া, সমগ্ৰ বিষয়টা তাঁহাদের

 ৩১