পাতা:রামেন্দ্রসুন্দর রচনাসমগ্র প্রথম খণ্ড.djvu/২৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

૨ 8૨ রামেন্দ্রসুন্দর রচনাসমগ্র বলেন্দ্রের সাহিত্যিক জীবনে যে বিশিষ্টতা ছিল, সেই বিশিষ্টতার গঠনকৰ্ম্মে তাহার পিতৃব্যের কতটুকু কৃতিত্ব ছিল, আমরা বাহির হইতে ঠিক তাহা বঢ়ি তে পারি না। তবে রবিরশ্মির প্রভাব হইতে আপনাকে আচ্ছন্ন রাখা তাহার পক্ষে অসাধ্য ছিল। অথবা বাঙ্গালার সাহিত্য জগতের বহু গ্রহ, উপগ্রহ ও বহুতর উস্কাপিণ্ড র্যাহার নিকট হইতে স্থায়ী বা ক্ষণিক প্রভা সংগ্ৰহ করিয়া দীপ্তি লাভ করিতেছে, বলেন্দ্রের মত অতুগামী ও অম্লচরে তাহার জ্যোতির আংশিক প্রতিফলনে ক্ষুন্ন হইবার হেতু নাই। বরং এত সন্নিধানে অবস্থান করিয়াও তিনি যে র্তাহার নিজস্ব প্রতিভা প্রচুর পরিমাণে দেখাইতে পারিয়া ছলেন; ইহাতেই তাহার সামর্থ্যের বিশিষ্টত । গদ্য অপেক্ষণ পদ্য রচনায় তাহাব এই নিজস্ব শক্তির স্পষ্টতর পরিচয় মিলে। র্তাহার রচিত কবিতাগুলির মূল্য র্তাহার গদ্য রচনার সমান না হক্টতে পারে, কিন্তু ইহাতে র্তাহfর নৈসর্গিক শক্তির ও স্বাতন্ত্র্যের অধিক স্মৃতি আছে। অন্ততঃ আধুনিক বঙ্গের অধিকাংশ কবির মত তিনি রবি-প্রতিভায় অভিভূত হন নাই। প্রাচীন সংস্কৃত সা হত্যের প্রতি তাহার যে অল্পবাণ ছিল, সেই সাহিত্যেব প্রভাবে তিনি আসিয়াছিলেন । কিন্তু তাহাকে আত্মসাৎ করিয়া তিনি আপনার স্বাধীনতা অক্ষুন্ন বাথিয়াছিলেন। বলেন্দ্রনাথের জীবনের স্বল্প কাহিনী লিপিবদ্ধ করা অমাব কাজ নহে। তাহীকে অন্তরঙ্গ ভাবে চিনার সুবিধা বা অবকাশ আমার ঘটে নাই। কয়ট দিনের জন্য আমি তাহার সম্পর্কে আসিয়াছিলাম। র্তাহাকে মিতভাষী ও মিষ্টভাষী দেগিতাম । তাহার রচনায় যে কোমল, স্নিগ্ধ, প্রশান্ত শ্রী ছিল, তাহার মুখে চোখে ও কথাবাৰ্ত্তীয় তাহা অারও স্পষ্ট দেখা যাইত । এখানে যেন তাহা সমস্ত তারল্য ও চাঞ্চল্য ত্যাগ করিগা আর ও ঘনাইয়া আসিয়াছিল। বালকের মূত্তির ভিতর প্রৌঢ়ের গাম্ভীৰ্য্য দেখিতে পাইতাম ; তাহার পরিমিত স্বল্পাক্ষরবদ্ধ উক্তি-প্রতু্যক্তির ভিতর যেন একটা নিলিপ্ততার ভাব দেখিতাম। তিনি যেন পৰ্য্যবেক্ষক মাত্র ; সংসারের চক্রে ৰ্তাহাকে যেন কেহ বাধিয়া দিয়াছে ; কিন্তু তিনি তাহার গতিবিধি পর্য্যবেক্ষণ করতেছেন মাত্র ; উহাতে আগ্রহের সহিত যোগ দিতেছেন না। উহাব উন্মত্ত কোলাহলে যোগ দিতে তিনি যেন অক্ষম। সংসারের বি চত্র সৌন্দর্য্যকলার উপভোগের জন্য হয়ত তিনি উপস্থিত আছেন, কিন্তু সেই সৌন্দর্য্যকে দঢ় স্পর্শে আঁকড়াইয়া ধরিবার তাহার ইচ্ছা নাই। র্তাহার গদ্য-রচনায় তিনি নিজের উপর যতটা কর্তৃত্ব রাখিয়াছিলেন, কবিতাগুলিতে তাহার কিছু অভাব দেখা যায়। ইহাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের দিকে একটা ভাবপ্রবণ আকাঙ্ক্ষা দেখা যায়। সৌন্দৰ্য্য উপভোগের আকাঙ্ক্ষা মাত্র বলিব, তৃষ্ণ বা লালসা বলিব না। কিন্তু তাহার যেন তৃপ্তিতে প্যবসান হইতেছে না। সেই অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষাই যেন থাকয় গেল, যেন মধ্যপথ হইতে সহসা কোন অদৃপ্ত হস্ত আসিয়া তাহাক নিঃশ-স্ব সরাইয়া লইয়া গেল।