পাতা:রায় দীনবন্ধু মিত্র বাহাদুরের জীবনী.djvu/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৩
রায় দীনবন্ধু মিত্র বাহাদুরের জীবনী।

এই প্রহসন বিশুদ্ধ রুচির অনুমোদিত নহে, এইজন্য আমি দীনবন্ধুকে বিশেষ অনুরোধ করিয়াছিলাম, যে ইহার বিশেষ পরিবর্ত্তন ব্যতীত প্রচার না হয়। কিছুদিনমাত্র এ অনুরোধ রক্ষা হইয়াছিল। অনেকে বলিবেন, এ অনুরোধ রক্ষা হয় নাই ভালই হইয়াছে, আমরা “নিমচাঁদ”কে দেখিতে পাইয়াছি। অনেকে ইহার বিপরীত বলিবেন।

 লীলাবতী” বিশেষ যত্নের সহিত রচিত, এবং দীনবন্ধুর অন্যান্য নাটকাপেক্ষা ইহাতে দোষ অল্প। এই সময়কে দীনবন্ধুর কবিত্বসূর্য্যের মধ্যাহ্নকাল বলা যাইতে পারে। ইহার পর হইতে কিঞ্চিৎ তেজঃক্ষতি দেখা যায়। এরূপ উদাহরণ অনেক পাওয়া যায়। স্কট প্রথমে পদ্যগ্রন্থ লিখিতে আরম্ভ করেন। প্রথম তিনখানি কাব্য অত্যুৎকৃষ্ট হয়, “Lady of the Lake” নামক কাব্যের পর আর তেমন হইল না। দেখিয়া, স্কট পদ্য লেখা ত্যাগ করিলেন, গদ্যকাব্য লিখিতে আরম্ভ করিলেন। গদ্যকাব্য-লেখক বলিয়া স্কটের যে যশ, তাহার মূল প্রথম পনের বা ষোলখানি নবেল। “Kenilworth” নামক গ্রন্থের পর স্কটের আর কোন উপন্যাস প্রথম শ্রেণীতে স্থান পাইবার যোগ্য হয় নাই। মধ্যাহ্নের প্রখর রোদ্রের সঙ্গে সন্ধ্যাকালীন ক্ষীণালোকের যে সম্বন্ধ, “Ivanhoe“ এবং “Kenilworth” প্রভৃতির সঙ্গে স্কটের শেষ দুইখানি গদ্যকাব্যের সেই সম্বন্ধ।

 লীলাবতীর পর দীনবন্ধুর লেখনী কিছুকাল বিশ্রাম লাভ করিয়াছিল। সেই বিশ্রামের পর “সুরধুনী” কাব্য “জামাইবারিক” এবং “দ্বাদশ কবিতা” অতি শীঘ্র শীঘ্র প্রকাশিত হয়। “সুরধুনী” কাব্য অনেক দিন পূৰ্ব্বে লিখিত হইয়াছিল। ইহার কিয়দংশ বিয়েপাগলা বুড়োরও পূৰ্ব্বে লিখিত হইয়াছিল। ইহাও প্রচার না হয়, আমি এমত অনুরোধ করিয়াছিলাম,—আমার বিবেচনায় ইহা দীনবন্ধুর লেখনীর যোগ্য হয় নাই। বোধ হয় অন্যান্য বন্ধুগণও এইরূপ অনুরোধ করিয়াছিলেন। এইজন্য ইহা অনেক দিন অপ্রকাশ ছিল।