পাতা:রাশিয়ার চিঠি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

তাদের কী ভাবে পালন করা বা শিক্ষা দেওয়া হয় স্টেট সে-সম্বন্ধে উদাসীন নয়। ষােলাে বছর বয়সের পূর্বে সন্তানকে কোথাও খাটুনির কাজে নিযুক্ত করতে পারবে না। আঠারাে বছর বয়স পর্যন্ত তাদের কাজের সময় পরিমাণ ছয় ঘণ্টা। ছেলেদের প্রতি পিতামাতা আপন কতব্য করছে কিনা তার তদারকের ভার অভিভাবক বিভাগের ’পরে। এই বিভাগের কর্মচারী মাঝে মাঝে পরিদর্শন করতে আসে, দেখে ছেলেদের স্বাস্থ্য কী রকম আছে, পড়াশুনাে কী রকম চলছে। যদি দেখা যায় ছেলেদের প্রতি অযত্ন হচ্ছে, তাহলে বাপমায়ের হাত থেকে ছেলেদের ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু তবু ছেলেদের ভরণপােষণের দায়িত্ব থাকে বাপমায়েরই। এই রকম ছেলেমেয়েদের মানুষ করবার ভার পড়ে সরকারী অভিভাবকবিভাগের।

 ভাবখানা এই, সন্তানেরা কেবল তাে বাপমায়ের নয়, মুখ্যত সমস্ত সমাজের। তাদের ভালােমন্দ নিয়ে সমস্ত সমাজের ভালােমন্দ। এরা যাতে মানুষ হয়ে ওঠে তার দায়িত্ব সমাজের, কেননা তার ফল সমাজেরই। ভেবে দেখতে গেলে পরিবারের দায়িত্বের চেয়ে সমাজের দায়িত্ব বেশি বই কম নয়। জনসাধারণ সম্বন্ধেও এদের মনের ভাব ঐ রকমেরই। এদের মতে জনসাধারণের অস্তিত্ব প্রধানত বিশিষ্টসাধারণের সুযােগ সুবিধার জন্যে নয়। তারা সমগ্র সমাজের অঙ্গ, সমাজের কোনাে বিশেষ অঙ্গের প্রত্যঙ্গ নয়। অতএব তাদের জন্য দায়িত্ব সমস্ত স্টেটের। ব্যক্তিগত ভাবে নিজের ভােগের বা প্রতাপের জন্য কেউ সমগ্র সমাজকে ডিঙিয়ে যেতে গেলে চলবে না।

 যাই হােক, মানুষের ব্যষ্টিগত ও সমষ্টিগত সীমা এরা যে ঠিকমতো ধরতে পেরেছে তা আমার ঝেধ হয় না। সে হিসাবে এর ফ্যাসিস্টদেরই মতাে। এই কারণে সমষ্টির খাতিরে ব্যষ্টির প্রতি পীড়নে এরা কোনো

৮২