বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৩১).pdf/১৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
রাশিয়ার চিঠি

করা চলে না; বাইরে থেকে উপকার ক’র্‌তে গেলে পদে পদে তা’র বিকার ঘটে। সমান হ’তে পার্‌লে তবেই সত্যকার সহায়তা সম্ভব হয়। যাই হোক, আমি ভালো ক’রে কিছুই ভেবে পাইনি—অথচ অধিকাংশ মানুষকে তলিয়ে রেখে, অমানুষ ক’রে রেখে তবেই সভ্যতা সমুচ্চ থাক্‌বে এ-কথা! অনিবার্য্য ব’লে মেনে নিতে গেলে মনে ধিক্কার আসে।

 ভেবে দেখো না, নিরন্ন ভারতবর্ষের অন্নে ইংলণ্ড পরিপুষ্ট হয়েচে। ইংলণ্ডের অনেক লোকেরই মনের ভাব এই যে ইংলণ্ডকে চিরদিন পোষণ করাই ভারতবর্ষের সার্থকতা। ইংলণ্ড বড়ো হ’য়ে উঠে মানবসমাজে বড়ো কাজ ক’র্‌চে এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে চিরকালের মতো একটা জাতিকে দাসত্বে বদ্ধ ক’রে রেখে দিলে দোষ নেই।.এই জাতি যদি কম খায় কম পরে তাতে কী যায় আসে, তবুও দয়া ক’রে তাদের অবস্থার কিছু উন্নতি করা উচিত এমন কথা তাদের মনে জাগে। কিন্তু একশো বছর হ’য়ে গেল, না পেলুম শিক্ষা না পেলুম স্বাস্থ্য, না পেলুম সম্পদ।

 প্রত্যেক সমাজের নিজের ভিতরেও এই একই কথা। যে-মানুষকে মানুষ সম্মান করতে পারে না