বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:রাশিয়ার চিঠি - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৩১).pdf/২১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১০
রাশিয়ার চিঠি

বাড়িতে তার আপিস সেটা সেকালের বড়োলোকের বাড়ি, কিন্ত ঘরে আসবাব একজন অতি সামান্য, পারিপাট্যের কোনো লক্ষণ নেই—নিষ্কার্পেট মেঝের এক কোণে যেমন-তেমন একখানা টেবিল; সবসুদ্ধ, পিতৃবিয়োগে ধোপানাপিতবর্জ্জিত অশৌচদশার মতো শয্যাসনশূন্য ভাব, যেন বাইরের লোকের কাছে সামাজিকতা রক্ষার কোনো দায় নেই। আমার বাসায় আহারাদির যে ব্যবস্থা তা গ্র্যাণ্ড হোটেল নামধারী পাস্থাবাসের পক্ষে নিতান্তই অসঙ্গত। কোনো কিন্তু এজন্যে কুণ্ঠা নেই—কেননা সকলেরই এক দশা।

 আমাদের বাল্যকালের কথ! মনে পড়ে। তখনকার জীবনযাত্রা ও তা’র আয়োজন এখনকার তুলনায় কতই অকিঞ্চিৎকর, কিন্তু সে-জন্যে আমাদের কারো মনে কিছুমাত্র সঙ্কোচ ছিল না; তা’র কারণ, তখনকার সংসারযাত্রার আদর্শে অত্যন্ত বেশি উচুনীচু ছিল না—সকলেরই ঘরে একটা মোটামোটি, রকমের চালচলন ছিল—তফাৎ যা ছিল তা বৈদগ্ধ্যের অর্থাৎ গান বাজনা পড়াশুনে! ইত্যাদি নিয়ে। তাছাড়া ছিল কৌলিক রীতির পার্থক্য অর্থাৎ ভাষা ভাব ভঙ্গী আচারবিচারগত বিশেষত্ব। কিন্তু তখন আমাদের