বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

একটা চেষ্টা চরিত্র করে না। এ সকল কারণ ব্যতীত পূর্ব্বের মন্ত বেশী মেশামেশি না হওয়াটার আরও একটী সূক্ষ্ম কারণ এই ঘটিয়াছে যে, কিছু দিন হইতে লক্ষ্মী তাহার গোকুল দা’কে দেখিয়া মনের মধ্যে কেমন যেন একটু সঙ্কোচ বোধ করিতে শিখিয়াছে।

 এ বৎসর দ্বিতীয় শ্রেণী হইতে বাৎসরিক পরীক্ষা দেয়া আজ প্রায় আট দশ দিন হইল গোকুল বাড়ী আসিয়াছে। ইহার মধ্যে একটি বারও সে লক্ষ্মীদের বাড়ী আসে নাই। জানি না ইহার জন্য লক্ষ্মী তাহার উপর কোনরূপ রাগ-অভিমান করিয়াছে কি না; সে কিন্তু মায়ের পালা-জ্বরের দোহাই দিয়া লোকের মুখেও নিজে যাচিয়া গোকুলের কোন সংবাদ লয় নাই। আর তাহা লইবেই বা কেমন করিয়া? সে যে আজ প্রায় দুই তিন মাস হইতে নিজেদের সংসার লইয়াই সর্ব্বদা ব্যস্ত হইয়া রহিয়াছে। বাসন মাজা হইতে আরম্ভ করিয়া দু’বেলা ভাত রাঁধিয়া মামার পাতে বাড়িয়া দেওয়া, সাগু করিয়া মাকে খাওয়ান ইত্যাদি তাহার নিত্যকর্ম্ম হইয়া পড়িয়াছে বলিলেই হয়। তবে ঈশ্বরের কৃপায় একটানা পাঁচ ছ’দিনের বেশী তাহাকে এ সব করিতে হয় না। মা একটু সারিয়া উঠিলেই মেয়ে আবার দিন কতকের জন্য ছুটী পায়। অর্থাৎ কিছুদিন হইতে সরস্বতীর কি এক প্রকার জ্বর হইতে আরম্ভ হইয়াছে, তাহা কোন মাসে একবার কোন’ মাসে বা দু’তিন বারও হইয়া থাকে।

 আজ ভাত খাইয়া দাদা বাহির হইয়া যাইবার পর বেলা প্রায় এগারটার সময় সরস্বতী ডাকিলেন, “ওমা লক্ষ্মী—এ দিকে একবার আয় ত মা।”

 মেয়ে রান্না-ঘর হইতে বলিল, —“কেন মা, যাই। এই সাবুটা ঢেলে রেখে যাচ্চি।”