কিছুক্ষণ পরে ঘরে ঢুকিয়া বলিল,—“কি বল্ছ মা—সাবু আন্বো?”
“না মা, তুই এখানে এসে বোস্।”
“ব’স্বো কি মা, আমার যে এখন কাজ রয়েছে” বলিতে বলিতে মায়ের মাথার কাছে বসিয়া পড়িয়া তাঁহার মাথায় হাত বুলাইয়া দিতে লাগিল।
শীতকাল—ঘরের জানালা খোলা ছিল। রৌদ্র আসিয়া রোগিনীর গায়ে মাথায় পড়িতেছিল। সরস্বতী বলিলেন,— “হ্যাঁরে—গোকুল নাকি এসেচে?”
“হ্যাঁ—শুন্চি তো।”
“তা কৈ——আমাদের বাড়ী এল’না যে!”
“কি জানি কেন এল না।”
ঠিক্ এই সময় গোকুল উঠান হইতে ডাকিল—“ও লক্ষ্মী—কোথারে তুই?”
সরস্বতী তাড়াতাড়ি উঠিয়া বসিবার চেষ্টা করিতে করিতে বলিলেন,— “এস” বাবা এস’—আমি এই এতক্ষণ তোমার কথাই ব’ছিলুম গোকুল—বলি, আজ ক’দিন হ’ল বাড়ী এসেছে, এখন’ এল না কেনতবে বুঝি তা’র মাসি-মাকে ভুলে গেল—”
গোকুল হাসিতে হাসিতে দাওয়ায় উঠিয়া বলিল- “সে কি কথা মাসি মা—ওকি! তোমার জ্বর হ’য়েছে বুঝি?”
“হ্যাঁ বাছা—জ্বরের আর কি বল—এমন ক’রে আর পারিনে।”
“তা’ জ্বরের ওপরেই কষ্ট ক’রে রাঁধতে হ’চ্ছে ত?”
“না মাণিক; তা’ হ’লে কি বাঁচতুম এতদিন—দুর্ব্বলে উঠ্তেই পারিনে তা’ রাঁধবো—”