“তবে যে উনুনে আগুন রয়েছে দেখ্লুম।”
“আমার অসুস্থ হ’লে লক্ষ্মীই রাঁধাবাড়া সব করে কিনা বাবা। ও ছিল ব’লেই এখনও বেঁচে রধিচি বাছা, নৈলে এতদিন কবে ম’রে যেতুম।”
“ও—তুই রাঁধিস্ বুঝি লক্ষ্মী?—তাই বুঝি চুপ করে রয়েচিস্?—দেখ দেখ মাসিমা, লজ্জা দেখ—তা’ এ তো ভাল কাজ, এতে আর লজ্জা কি?”
লক্ষ্মী বলিয়া উঠিল—“হ্যাঁ, লজ্জা কর্চে!”
“করিস্ নি—দেখো দেখো মাসিমা, ওর মুখ দেখো—”
মাসিমা কোন জবাব করিলেন না। কেবল একটু হাসিলেন। ইহার পর দু’একটী বাজে কথা কহিয়া গোকুল বলিল— “মাসি মা, একবার উঠে বস’ না।”
সরস্বতী বুঝিতে পারিয়া বলিলেন,— “থাক্ বাবা, আমাকে আর প্রণাম ক’রতে হবে না—বেঁচে থাক’ সুখে থাক, সোণার দোত কলম হোক্” ইত্যাদি আরও অনেক আশীর্ব্বাদ করিলেন। লক্ষ্মী ইতিপূর্ব্বেই গোকুলকে পাশ কাটাইয়া রান্না ঘরে গিয়া ঢুকিয়াছিল।
গোকুল সরস্বতীর আশীর্ব্বাদ শিরোধার্য্য করিয়া বাটির বাহির হইতেহইতে দেখিল যে, লক্ষ্মী পাকা গিন্নীর মত রান্না ঘরে বসিয়া জ্বলন্ত উনানে কড়াটা চাপাইয়া দিয়া সাগু ঢালাচালি করিতেছে। দেখিয়াই হাসিয়া বলিল—”বারে লক্ষ্মী—বেশ ত গিন্নী হয়েচিস্রে।”
লক্ষ্মী চোখের উপর হইতে চুলগুলি সরাইয়া দিয়া তাহারই মত ছেলে মানুষি করিয়া হাসিতে হাসিতে বলিল,—“আর তুমি?” ভাবটা এই যে,