লক্ষ্মী এবারেও আরও অধিকতর বিরক্তির কণ্ঠে “যাওঃ” বলিয়া চুপ করিয়া রহিল দেথিয়া গোকুল আরও জিদের সহিত বলিল,—“আচ্ছা তুই কি বল্তে চাস্, বেশ হবে না—ওকি না, তোকে বলতেই হ’বে” বলিয়া সরিয়া আসিয়া তাহার একটী হাত চাপিয়া ধরিল।
লক্ষ্মী মহামুস্কিলে পড়িল। এ ‘পাগলের’ কথায় সে কি উত্তর দিবে? কিন্তু উপায়ন্তরও নাই দেখিয়া লজ্জার মাথা খাইয়া কহিল, হাঁ-হাঁ যাও—”
গোকুল খুসি হইয়া হাত ছাড়িয়া দিয়া কহিল,—“তবেরে দুষ্টু—এতক্ষণ ‘না’ বলছিলি; আচ্ছা লক্ষ্মী তুই আমার বউ হবি তো?”
কথাটি গোকুলের মুখ দিয়া বাহির হইতেই লক্ষ্মীর বুকের ভিতর কি যেন দুলিয়া উঠিল। বোধ হইল, যেন সমস্ত শরীরের রক্ত তাহার মুখের উপর আসিয়া পড়িয়াছে। সে তাড়াতাড়ি গোকুলের দৃষ্টি হইতে মুখখানি ফিরাইয়া লইল। দেখিয়া গোকুলের চমক ভাঙ্গিয়া গেল, তাই তো, এসব কথায় যে লজ্জা করিতে হয়! সে ব্যস্ত-সমস্ত হইয়া বলিয়া উঠিল,—“যা লক্ষ্মী যা—তুই আমার ঘর থেকে পালা—আমরা যে এখন বড় হ’য়েছি—ছিঃ তুই কিরে—”
লক্ষ্মীর একবার ইচ্ছা হইল, তাহার সম্মুখ ছাড়িয়া পলাইয়া যায়; অথচ, কে যেন তাহাকে ঐরূপ আড়ষ্ট ভাবেই মুখ ফিরাইরা দাঁড়াইয়া থাকিতেই বাধ্য করিল।
ইহাতে গোকুল অতিশয় অস্বস্তি অনুভব করিয়া বলিয়া উঠিল,— কৈরে, এখনও দাঁড়িয়ে রইলি যে—যা ব’ল্চি শীগগির—”
লক্ষ্মী ঘর হইতে বাহির হইয়া গেল।