বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/১৭

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

 আজ ছয় মাস হইল গোকুল কলিকাতায় গিয়াছে; এই ছয়মাস কাল সরস্বতী যে কি করিয়া কাটাইয়াছেন, তাহা তাঁহার অন্তরে যিনি আছেন তিনিই জানেন।—দিন যেন আর কাটে না!—কবে বৎসর ঘুরিবে, কবে তিনি শুনিবেন—গোকুল পাশ দিয়া বাড়ী ফিরিতেছে!

 জানিনা বিধবাকে ঐভাবে দিন গুনিতে দেখিয়া তাঁহার ভাগ্যবিধাতা মুখটিপিয়া হাসিতেছিলেন কি না; কেননা যে আশাটি এতদিন বিধবার মনের মধ্যে ধীরে-ধীরে বাড়িয়া উঠিতেছিল, তাহাই একদিন সহসা খান-খান্ হইয়া ভাঙ্গিয়া পড়িল।

 একদিন দুপুর বেলা নারায়ণী তাঁহাদের বাড়ী আসিয়া যে ভাবে যে-সব কথাগুলি বলিয়া গেলেন, তাহাতে বিধবা বুঝিলেন, এ দোষ কাহারও নয়—দোষ তাঁহার ভাগ্যের। তিনি কাহারও প্রতি একটুকু রাগ অভিমান করিলেন না; কেবল একটীবার অস্ফুটে বলিয়া উঠিলেন—“এই যদি তোমার মনে ছিল ঠাকুর, তবে আশা কেন দিয়েছিলে প্রভু?”

 সত্যই নারায়ণীর নিজের কোন দোষ ছিল না। সংসারে কৃতজ্ঞতার মুখ চাহিয়া কাহারও হৃদয়ে ব্যথা দিতে বাধ্য হওয়ার যদি কোন দোষ থাকে, তবে, একমাত্র তাহাই হইয়াছিল নারায়ণীর দোষ। ইহা ভিন্ন, এ কথাটিও ভুলিলে চলিবে না যে, নারায়ণী মানবী ভিন্ন দেবী নহেন।

 কথাটী খুলিয়া বলি।

 ও পাড়ার বোস-গিন্নি মনোরমার মধ্যম ভ্রাতা বিনয় চন্দ্র ঘোষ মহাশয় অনেক দিন হইতে আপনার কনিষ্ঠা কন্যা অমিয়া সুন্দরীর জন্য একটী সৎপাত্রের সন্ধান করিয়া রাখিয়াছিলেন। কথা ছিল, এই বৎসর সে ছেলে এফ্‌, এ-পাশ করিলেই শুভ বিবাহ, কার্য্য সম্পন্ন হইবে। আজ