কিন্তু এতটুকুও বিষণ্ণ হইতে দেখা যায় নাই। তিনি বরং বলিয়াছিলেন—“তার জন্যে আর কান্না কাটি কেন দিদি-তের বছর?—তা হ’লেই বা, আমি একমাসের মধ্যেই ওর চেয়ে ভাল পাত্রের যোগাড় কর্বো—তুই কাঁদিস্নে বোন্—ওতে যে আমি বিরক্ত হই তা’ ত’ জানিস?”
সরস্বতী নিজেও বুঝিয়াছিলেন—মিছামিছি কাঁদিলে আর কি হইবে। কিন্তু তথাপি তাঁহার মন যে থাকিয়া থাকিয়া কাঁদিয়া উঠিতেছিল—কোন উপদেশই সে মানিতে চাহিতেছিল না। মেয়ে যে এত বড় হইয়াছে, গোকুলের আশায় আশায় থাকিয়া জননী যেন এতদিন তাহা দেখিরাও দেখেন নাই; আজ তাহাকে হঠাৎ এতটা বাড়িয়া উঠিতে দেখিয়া তাঁহার মাথায় বজ্রাঘাত হইয়াছে। তিনি কাঁদিতে-কাঁদিতে অগ্রসর হইয়া দুই হাতে দাদার হাত দু’টী চাপিয়া ধরিয়া বলিলেন—“কি করবো যতদিন আর একটী ভাল ছেলের যোগাড় না হচ্ছে ততদিন আমি যে আর—”
সত্যবাবু বাধা দিয়া ক্লান্ত স্বরে বলিলেন—“আচ্ছা ভাই, তুই এখন একটু থাম্।”
লক্ষ্মী সকলি শুনিয়াছিল ও সকলি বুঝিয়াছিল; তাহার মনের অবস্থার কথা আর বলিব না—বলিলেও হয় ত’ ঠিক করিয়া বলা হইবে না। সে মাকে থামাইবার জন্য অনেকক্ষণ হইতে চেষ্টা করিতেছিল, কোনই ফল হয় নাই। মায়ের এই কাটা পাঁঠার মত ছট্-ফটানি দেখিয়া দেখিয়া বড় একটা লজ্জা-সরম ও তাহার তখন ছিল না। মামার কথা শুনিয়া মায়ের উপর রাগ করিয়া বলিল—“হ্যাঁ থাম্বে, থাম্বার