বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/২২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

পাত্র জুটিয়াছে, এবং তাহার সম্বন্ধে মাত্র একটী কথা বাদ দিলে, বোধ করি এমন সুযোগ সব সময় সকলের ভাগ্যে জুটে না। খাওয়া পরার জন্য লক্ষ্মীকে তো একটী দিনের জন্যও ভাবিতে হইবে না—শ্বাশুড়ী ননদের গঞ্জনার সহিত লক্ষ্মীর পরিচয়ও হইবে না, ইত্যাদি আরও বে কত কি হইবে না, সে বিষয় নিশ্চিত করিয়া তিনি যখন জানাইলেন যে, ও পাড়ার শরৎ ঘোষ-ই জামাই হইবেন, তখন এ কি হইল? সরস্বতী যে বলিয়াছিলেন, যাহা হয় একটি জুটাইয়া দাও দেবতা, সে কথা প্রায় বিস্তৃত হইয়া আঁচলে মুখ ঢাকিয়া কাঁদিতে সুরু করিয়া দিলেন। দাদা অস্থির হইয়া বুঝাইয়া বলিতে লাগিলেন, “না দিদি, এতে আর অমত করিনে সরো—যা’ হ’য়েছে ভালই হ’য়েছে; বরং ভেবে দেখ,, এও যদি না জুটতো, তা হ’লে, আর কি তোরা আমার মুখ দেখতে পেতিস্ বোন্? কি কর্‌বো দিদি, একে মেয়ে বেড়ে উঠেচে, তা’তে আবার পাড়ার পাঁচ ব্যাটা জুটে শত্রুতা কর্‌চে—বুঝিস্‌ তো সব। তা’ছাড়া অনেকেই তো এমন দেয়, না আমরাই কেবল আজ নতুন দিচ্চি বোন্?” ইত্যাদি আরো অনেক সান্ত্বনার বাক্য শুনিয়া-শুনিয়া এবং নিজেও সমস্ত বুঝিয়া সরস্বতী চুপ করিলেন। তারপর মুখ তুলিয়া দেখিলেন, দাদার চোখেও দু’ফোঁটা জল টল্‌ টল্ করিতেছে।


[ ৬ ]

 ছেলেদের আন্তরিক ধন্যবাদ লইয়া আবিনাশ পণ্ডিত আজ বৈকালে একটু সকাল-সকাল পাঠশালা বন্ধ করিলেন। তারপর অনেকটা পথ হাঁটিয়া আসিয়া লক্ষ্মীদের উঠানে পা দিয়াই ডাকিলেন— “লক্ষ্মীর মা কোথা গো!” লক্ষ্মীকে রান্না-ঘর হইতে বাহির হইতে দেখিয়া বলিয়া উঠিলে

২০