—“এইযে লক্ষ্মী—বা’রে, তুই এত বড় হ’য়েচিস্—তোর মা কোথায় রে,—মামা বুঝি বেরিয়েচে?”
লক্ষ্মী দাদা-ঠাকুরের পায়ে গড় হইয়া প্রণাম করিয়া— “হ্যাঁ, মামাবাবু বেরিয়েচে; যা ঘাটে গেছে, এখুনি আস্বে—বলিতে বলিতে ঘরে ঢুকিয়া একটা পিঁড়া আনিয়া দাওয়ার উপর পাতিয়া দিল। তিনি আসন গ্রহণ করিতে করিতে কতকটা আপন মনে বলিলেন—“তা’ মানাবে ভাল—আমাদের শরৎ বাবুকে দেখতে এখনো অমন আঁট্-সাঁট্ হ’লে কি হ’বে—বয়েস টা নেহাত কম নয় কিনা— তিরিশের কম তো কখন-ই—এই যে, আমি তোমার জন্যেই—থাক্-থাক্ জয়স্ত কল্যাণ হোক্—তারপর লক্ষ্মীর মা—সত্যচরণের তো খুব-ই মত দেখলুম, তুমি কি বল?”
“আমার আর বলাবলি কি বাবাঠাকুর যা’র সঙ্গে যা’র হ’বার আছে সে তো মানুষে কেউ রদ্ করতে পারবে না—নৈলে অমন কথা ভেঙ্গে যাবে কেন?”
“কা’দের কথা ব’ল্ছ—হরিপুরের গোষ্ট—”
“না-না, এই মিত্তিরদের কথা ব’ল্চি, ব’লি—”
“ও—গোকুলের কথা ব’ল্চ?—তা’ দেখো লক্ষ্মীর মা, বল্লে তুমি হয় ত রাগ ক’র্বে বাছা,—আমি তো বলি, তার চেয়ে এ তোমাদের ঢের ভাল হ’ল। ওদের আর কি আছে বল’—ঐ বাড়ী খানি, তা সে তো নামেই দ্বোতোলা, তারপর ঐ ফোঁটা দুই জনি, আর দু’চার ঘর প্রজা; এই তো? কিন্তু শরৎ ঘোষ পাটের দালালি করে কি কম টাকাটা জমিয়েছে গা? তা হ’বেই যে, খরচ তো বড় একটা ছিল না কি না; তবে হাঁ, লোকের নামে মিথ্যে কথাও ব’ল্তে নেই বাছা;—