বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

খরচ-খরচা নেই ব’লছি বটে, কিন্তু বাজে খরচাই ও কি কম ক’রেচে—এই ধরনা কেন, বছর-বছর মা-বাপের বাৎসরিক শ্রাদ্ধে গ্রাম শুদ্ধ লোককে মেনন্তন্ন ক’রে খাওয়ান, জানতো সব? এছাড়া ফি-রবিবারে আধ-নোণ ক’রে চা’ল গরিব দুঃখিদের দেওয়া, এসব কি সোজা কথা? একটা বড় জমিদারে যা’ না পারে—তবে আর বলছি কেন, যে, এত খরচ-খরচা ক’রেও ওর কি কোনও দিন অভাব আছে—যা লক্ষ্মী যেন ওর ঘরে বাঁধা হ’য়ে র’য়েচেন।” একটানা এতগুলি কথা বলা আজ তাঁহার নূতন নয়; বিশেষ আবশ্যক হইলে তিনি অক্লেশে আরও পনের মিনিট ঠিক এম্‌নি ভাবেই বকিয়া যাইতে পারেন। তাই মাত্র একটী ছোট নিশ্বাসেই এতগুলি কথা বলার ক্লেশটা উড়াইয়া দিলেন।

 লক্ষ্মী এতক্ষণ চুপ করিয়া একধারে বসিয়াছিল; ইতিপূর্ব্বে একবার তাহার উঠিয়া যাইবার ইচ্ছা হইয়াছিল বটে কিন্তু দাদা ঠাকুরের কথা গুলির মধ্যে যে অদ্ভুত আকর্ষণী শক্তি ছিল, তাহাই তাহাকে বসিয়া থাকিতে বাধ্য করিয়াছিল। এবং ইহা ভিন্ন, আরও একটী কারণ ঘটিয়াছিল। সে যখন লজ্জায় উঠিয়া যাইতে চাহিল, তখন তাহার মন যেন বলিয়া উঠিল যে, সে ঘরে গিয়া বসিবে কেন? শরৎ ঘোষ তাহার কে, যে, সে তাহার দাদাঠাকুরের মুখে তাহার ধন-সম্পত্তির ইতিহাস শুনিয়া লজ্জায় পলাইয়া যাইবে? ইহাতে তাহার কিসের লজ্জা?

 বাবাঠাকুরের সুদীর্ঘ বক্তৃতা শেষ হইলে সরস্বতী ধীরে-ধীরে বলিলেন —“এসব তো আমিও কিছু-কিছু জানি বাবাঠাকুর, কিন্তু তাঁর এখন বয়েস কত?” বলিয়া ফেলিয়াই একটু লজ্জা পাইলেন। মনে হইল লক্ষ্মী যে পশ্চাতে বসিয়া আছে।

২২