“বয়েস আর এমন কি” বলিয়াই হঠাৎ লক্ষ্মীর পাণে চাহিয়া বলিলেন— “ও লক্ষ্মী, তুই কেন এখানে ব’সে দিদি? যাও নিজের কাজ করোগে—“লক্ষ্মী বহু চেষ্টা সত্ত্বেও মুখের ভাব ঠিক রাখিতে পারিল না; উঠিয়া কল্সীটা তুলিয়া লইয়া একটু পা চালাইয়া পুকুর ঘাটে চলিয়া গেল।
মেয়ে দৃষ্টির বাহির হইয়া গেলে সরস্বতী বলিলেন,—“শুন্তে পাই পঞ্চাশের নাকি কাছাকাছি—” বলিতে বলিতে তাঁহার চক্ষু ছল্-ছল্ করিয়া উঠিল। পরক্ষণেই আঁচলে মুখ ঢাকিলেন।
বাবাঠাকুর ব্যস্ত ভাবে বলিয়া উঠিলেন—“না না, এ কথা কে ব’ল্লে তোমাকে?—বড় জোর চল্লিশ হবে, এর বেশী একদিনও না;—এই জন্যই তো বলে বাছা,—মানুষের বড় শত্রু নেই।’ বাবা! কোথায় চল্লিশ `আর কোথায় পঞ্চাশ—যা’কে বলে সেই আকাশ পাতাল তফাৎ।”
খানিকক্ষণ পরে লক্ষ্মী বাড়ী ঢুকিয়া দেখিল, দাদা ঠাকুর যাইবার জন্য প্রস্তুত হইয়াছেন। তিনি তাহাকে আসিতে দেখিয়া বলিয়া উঠিলেন—“এই যে এসিচিস্, আমি এই এতক্ষণ তোর কথাই বলছিলুম, বলি, রাণী হ’য়ে ব’সে এই বুড়োটাকে যেন ভুলিনে দিদি—এই কাজটি করিস্; “কি গো দিদি কেমন আচিস্’ বলে গেলে, আর কিছু না করিস্ তো দু’দণ্ড ব’সে একটু জিরোবার জায়গা দিতে যেন বিরক্ত হোস্নে।” বলিয়া কাষ্ট হাসি মুখে টানিয়া আনিয়া মুখের কেমন একপ্রকার ভঙ্গী করিয়া হেঁট হইয়া উঁকি মারিয়া লক্ষ্মীর মুখপাণে চাহিলেন; তারপর ঘাড় তুলিয়া লক্ষ্মীর মার দিকে চাহিয়া যে কয়েকটী দাঁত অবশিষ্ট ছিল, তাহাই বাহির করিয়া 'হ্যা-হ্যা” হাসিয়া উঠিলেন।