লক্ষ্মী মনে-মনে “ভিমরতী আর বলে কাকে” বলিয়া ভিজা কাপড়ে ঘরে ঢুকিল।
[ ৯ ]
বিগত রাত্রে লক্ষ্মীর বিবাহ হইয়া গিয়াছে। বর দেখিয়া কেহ হাসিয়াছে, কেহ কাঁদিয়াছে, কেহ বা এ দু’য়ের কোনটাই করে নাই; পরিতোষে আহার করিয়া চুপ্-চাপ ঘরের মানুষ ঘরে ফিরিয়াছে। ঘটা দেখিয়া সকলে বিস্মিত হইয়া গিয়াছে। কেহ কেহ বলিছে, ‘তা’ হ’বে না কেন বল—অমন জামাই পায় কটা লোক? যাই হোক্ ছুঁড়ীর কপালটা কিন্তু খুব ভাল হে।” এ বিষয় যে তিলমাত্র সন্দেহ নাই তাহাই সপ্রমাণ করিবার জন্য দুই তিন জন একবাক্যে বলিয়া উঠিয়াছে— “সে কথা আর ব’লতে; নৈলে অত গয়না ওরা কখনও চোখে দেখেচে?” ইত্যাদি যাহার যাহা প্রাণ চাহিয়াছে সে তাহা-ই বলিয়াছে।
বর দেখিয়া লক্ষ্মীর যেমন কোন আনন্দও হয় নাই, তেম্নি কোনরূপ দুঃখ কষ্টও সে অনুভব করে নাই। এবং ইহা ভিন্ন, একজন ব্যতীত কাহারও উপর এতটুকুও রাগ-অভিমান করিতে সে পারে নাই। তা’ ছাড়া, যাহার উপর করিয়াছিল মাত্রায় তাহাও অতি অল্প। এ সকলের কারণ এই যে, সংসারের ঘাত-প্রতিঘাত সহিয়া-সহিয়া লক্ষ্মীর জীবনের বয়স অপেক্ষা তাহার মনের বয়সটা ঢের বেশী বাড়িয়া গিয়াছিল; উপরকার দেহের বয়স মোটে চৌদ্দের কাছাকাছি হইলে কি হয়, তাহার বুকের মধ্যে কিন্তু যে মানুষটি আপনার অকালপক্ক বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার ভারে ক্লান্ত হইয়া ধীর স্থির এবং গম্ভীর ভাবে বসিয়াছিল, তাহাকেই লক্ষ্য
২৪