এইরূপে শেষটা গোকুলকেও ছাড়িয়া দিয়া কেবল নিজেরই উপর নিরতিশয় ক্ষোভে অভিমানে লক্ষ্মী নিজের হৃদয়ের মধ্যে প্রবল ব্যথা অনুভব করিতে লাগিল।
আজ বৈকালে কা’ণে লইয়া বর নিজালরে শুভ যাত্রা করিবেন স্থির হইয়াছে। তাই আজ দুপুর বেলা মা ও পাড়ার সেই বুড়ী দিদি-মা উভয়ে মিলিয়া নানা অলঙ্কারে লক্ষ্মীর সর্ব্বাঙ্গ ঢাকিয়া দিয়া বাড়ী-বাড়ী যাইয়া লক্ষ্মীর দ্বারা গুরুজনদের প্রণাম করাইয়া সকলের আশীর্ব্বাদ কুড়াইয়া ফিরিতে লাগিলেন। অবশেষে বেলা আন্দাজ তিনটার সময় মেয়ে লইয়া তাঁহারা গোকুলদের বাড়ীর দিকে চলিলেন। অলঙ্কারের ভারে ও এতগুলি দণ্ডবৎ করার উঠাবসার পরিশ্রমে লক্ষ্মী বোধ করি বিরক্ত ও ক্লান্ত হইয়া পড়িয়াছিল।—এ যেন ছাই ফুরায় না! গোকুলের বাড়ীর সুমুখে আসিয়া লক্ষ্মী বলিল, “বাবারে আর পারিনে।”
দিদি মা বলিয়া উঠিলেন—চুপ্ চুপ্ কেউ শুন্তে পাবে ছিঃ, আজ কি একথা বল্তে আছে দিদি?”
লক্ষ্মী সহজ অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বলিল— “কেন, আজ কি?”
দিদি মা স্নেহের তিরস্কার করিয়া বলিলেন—“তোর এক কথা ভাই—ছিঃ, ও কথা কি-”
এইবার মাও বলিয়া উঠিলেন—“তাই বটে, ও কি লক্ষ্মী?”
ইহার পর উপরে গিয়া লক্ষ্মী দিদি মায়ের নির্দ্দেশ মত প্রথমেই নারায়ণীর পায়ে গড় হইয়া প্রণাম করিল। নারায়ণী সস্নেহে লক্ষ্মীর মাথার উপর একটী হাত রাখিয়া বিড়্ বিড়্ করিয়া কি সব বলিলেন—কিছুই স্পষ্ট বুঝা গেল না। ক্রমেই তাঁহার কণ্ঠস্বর ভারী হইয়া উঠিল। এবং