বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৩১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

নিরতিশয় করুণ দৃষ্টিতে হরিপদর মুখপানে চাহিল। হরিপদ একেবারে আশ্চর্য্যে অভিভূত হইয়া গিয়াছিল—কি বলিতে গেল, কিন্তু কোন কথাই বাকস্ফুট হইল না—ফ্যাল্-ফ্যাল দৃষ্টিতে লক্ষ্মীর মুখের পানে চাহিয়া রহিল।

[ ৮ ]

 এণ্ট্রা্‌ন্স পরীক্ষা শেষ হইরা গেলে ফাল্গুনের শেষাশেষি গোকুল বাড়ী আসিয়া, তিন মাস পূর্ব্বে ও-পাড়ার শরৎ ঘোষের সহিত লক্ষ্মীর বিবাহ হইয়া গিয়াছে শুনিয়া সত্য সত্যই যুগপৎ গভীর বিস্ময় ও মনঃকষ্টের আতিশয্যে কেমন যেন মুষ্‌ড়াইয়া পড়িল। লক্ষ্মীর পত্র পাওয়া তো দূরের কথা, ইতিপূর্ব্বে ঘূণাক্ষরেও এ-সবের কিছুই সে শুনিতে পায় নাই। পাছে পাশের পড়ার কোনরূপ ব্যাঘাত ঘটে, এই ভয়ে সুবিজ্ঞ বিনয় বাবু বিশেষ সতর্ক ছিলেন। এমন কি, তিনি-ই যে তাহার শ্বশুর হইবেন,—অর্থাৎ তাঁহার যে মেয়েটী তাহাদের নিজেদের কলুটোলার বাড়ীতে না থাকিয়া বাল্যকাল হইতেই শ্যামবাজারের দিদিমার কাছে থাকে, এবং মাঝে মাঝে এ বাড়ী বেড়াইতে আসে, সেই টুকটুকে মেয়েটা -যাহার নাম ‘অমিয়া’, তাহার-ই সহিত তাহার যে বিবাহ হইবে এ সংবাদটীও ইতিপূর্ব্বে গোকুলের কর্ণগোচর হইতে দেন নাই। কাজেই বাড়ী আসিয়া সে যখন এই সকল কথা শুনিতে পাইন, তখন প্রথমটা কোনও কথাই তাহার মুখ দিয়া বাহির হইল না। এবং শেষটাও যাহা বলিল তাহাও অতি অল্প; কেননা হিঁদুর ঘরের বিবাহ যে ছেলে খেলা নহে এবং হাজার চেষ্টা করিলেও সে যে এখন আর লক্ষ্মীর সে

২৯