বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মা

বিবাহ ‘না’ করিয়া দিয়া তাহাকে ঘুরাইয়া আনিতে পারিবে না, এ জ্ঞান এখন তাহার যথেষ্ট হইয়াছিল। এবং সে ইহাও বুঝিল যে, এখন তাহার জন্য লোক জানাইয়া—‘হা হুতাশ’ করাটাও তাহার পক্ষে নিতান্ত ছেলেমানুষী ভিন্ন আর কিছুই হইবে না—কেন না তাহাতে কোনরূপ সুফল হওয়া তো দূরের কথা, বরং চারিদিকে শত্রু হাসিবে।

 এই সকল ভাবিয়া-চিন্তিয়া সে কেবল এই মাত্র বলিল যে,—‘তা’ এ তো আমার ভালই হল; অমন ভগ্নী পাওয়া কি মুখের কথা, ভবিষ্যতে আমার পাণে চাইবার ও ছাড়া আমার আর আপনার লোক কে আছে?” কথাটি সে যে কেবল লোক শুনাইয়াই বলিল তাহা নহে, নিজের মনকে সে এই বলিয়াই সান্ত্বনা দিল।

 তাহার এই কথায় নারায়ণী হইতে আরম্ভ করিয়া পাড়ার আর সকলেও মনে-মনে বিস্মিত হইলেন। নারায়ণী ধর্ম্মের উদ্দেশে বারংবার প্রণাম করিলেন। কেন না তিনি মনে করিয়াছিলেন, যে, এই অতিশয় অচিন্তণীয় সংবাদটী গোকুলের হৃদয়ে যে-আঘাত করিবে, তাহার টাল্‌টী নাম্‌লাইয়া লওয়া গোকুলের পক্ষে বড় সহজ কাজ হইবে না।

 আজ প্রায় ছয় দিন হইল গোকুল বাড়ী আসিয়াছে। ইস্কুল বাড়ী প্রায় তৈয়ারী হইয়া গিয়াছে শুনিয়া ‘যাবো যাবো’ করিয়া এ কয়দিনের মধ্যে তেমন সুবিধা ঘটিয়া উঠে নাই। আজ ভোর বেলা উঠিয়া বরাবর চলিল।

 বক্‌নাহাটী হইতে এই ইস্কুলে যাইবার পথের দক্ষিণ দিকে অবিনাশ পণ্ডিতের খট্-খটে উঠানযুক্ত মেটে-বাড়ীটি বেশ দেখা যায়। সদর

৩০