গোকুল তাঁহার অনুসরণ করিতে করিতে সংক্ষেপে জানাইল যে, মন্দ লিখে নাই।
বাড়ী ঢুকিয়া চাটুয্যে ম’শাই মেয়ের নাম ধরিয়া ডাকিলেন—“ওমা বিন্দি—বাইরে একবার শুনে যা’ তো মা।” ভিতর বাড়ী হইতে পাঁচ বছরের বিন্দু—“কেন বাবা, যাই” বলিতে বলিতে বাহিরে আসিল। তিনি বলিলেন—“বাড়ীর ভেতর থেকে টুল্টী নিয়ে আয় ত মা। গোকুল বলিয়া উঠিল—“আজ্ঞে, আমি এই দাওয়াতেই—”পণ্ডিত ম’শাই বাধা দিয়া বলিলেন—“না রে বাবা না—তুই না হয় গুরুমশাইয়ের বাড়ী ব’লে উঠোনে ব’তেও লজ্জা ক’বিনে তা' জানি, আমি কিন্তু তা’—এই যে এসেচে—দে মা ঐখানে পেতে দে―নে গোকুল ব’স্; অনেক দিনের পরে আমাদের বাড়ী এসিচিদ্ বাবা—দু’টো কথাবার্ত্তা কই তোর সঙ্গে—গোকুল বসিল। মেয়েটা অদূরে একটী কোন্ ঘেঁষিয়া দাঁড়াইয়া এই নবাগত বাবুটিকে চাহিয়া চাহিয়া দেখিতে লাগিল।
পণ্ডিত ন’শাই কন্যার দিকে চাহিয়া বলিলেন—“কিরে বিন্দি, তুই অমন ক’রে ওখানে গিয়ে দাঁড়ালি যে বড়—এঁর সঙ্গে কথা কইলি না?” মেয়ে লজ্জায় মাথা হেঁট করিতেই তিনি পুনরায় বলিলেন—“ওকিরে—তুই বুঝি চিনতে পারচি নে?— এ্যা পাচিনে? বলিস কিরে ও যে তোর সেই গোকুল দাদারে! এ্যাঃ!—তবে ও তোকে তা’ দেবে কেন? “গোকুল দাদা পাশ দিয়ে এলে আমায় দু'হাতে দুটো টাকা দেখেনি বাবা, দেখো’—এই বলিয়া গোকুলের দিকে চাহিয়া বলিলেন—‘আবার যা’ তা’ টাকা হলে চ’ল্বে না জান বাবা, মেয়ের চক্চকে টাকা চাই—অথচ গোকুলদাকে তো চিন্তেই পারলে না।”
৩২