মেয়ে বাপের কথাটী বুঝিয়া লজ্জা পাইয়া ফস্ করিয়া বলিয়া ফেলিল —“যাঃ—আমি নাকি বলিচি?”
তিনি গোকুলের অলক্ষ্যে কট্ মট্ করিয়া মেয়ের মুখপানে চাহিয়া বলিলেন— ‘না তা’ কি আর বলিচিস্?—মেয়ের আবার লজ্জা দেখেচ গোকুল? বলেনি, কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে, কতক্ষণে পকেট থেকে ‘এই নে বিন্দু’ ব’লে বা’র ক’রে দেবে—” এই বলিয়া কেমন এক প্রকার স্বরে-বলিলেন—“নারে না বিন্দি, তুই পালা, টাকা নিয়ে কি ক'র্বি—” বলিয়া-গোকুলের বাকশূন্য মুখপানে চাহিয়া বলিলেন—“ও কিন্তু মনে-মনে বাপকে গাল দিচ্ছে, জান, বাবা, ব’ল্ছে— ‘হাঁ টাকা নিয়ে কি ক’রবি—আমি সন্দেশ খাবো জাননা বুঝি?” এই বলিরা ফিরিয়া দেখিলেন, মেয়ে ইতিমধ্যেই সরিয়া পড়িয়াছে। তাড়াতাড়ি বলিয়া উঠিলেন—“ওরে ঐ, চলে গেলি নাকিরে”—বলিয়া অল্প ক্ষুণ্ণ স্বরে বলিলেন—“তা যাক্ যাক্—ভালই হ’য়েছে—”
“না না, যা’বে কেন— সত্যিই তো, একথা ও ব’লতে পারে বটে-আপনি ওকে ডাকুন” এই বলিয়া গোকুল পকেটে হাত দিয়া দেখিল “দুইটা টাকাই আছে, তবে দুঃখের বিষয় তেমন চক্চকে নয়। তাহাই বাহির করিল।
গোকুল সত্যই এমন ছেলে মানুষি করিবে জানিলে তিনি যে তাহার সুমুখে একথা মুখেও আনিতেন না, এই কথাটী পণ্ডিত ম’শাই অনুতাপের স্বরে বার দুই তিন জানাইয়া দিয়া অবশেষে গোকুলের উপর্য্যুপরি পীড়াপীড়িতে যেন কতকটা বাধ্য হইয়াই মেয়েকে ডাকিলেন। মেয়ে কিন্তু আর আসিলনা দেখিয়া বলিলেন—“ও কি এখন আর আস্বে,—সে-
৩৩