বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

মেয়েই ও নয়। আর তুমিও তো ছাড়্‌বে না—তা দাও আমিই এখন রেখে দিই।” ইহার পর টাকা দুইটী ট্যাঁকে গুঁজিতে-গুঁজিতে বলিলেন “তারপর এখন কোথায় যাওয়া হ’বে— লক্ষ্মীর সঙ্গে দেখা ক’র্‌তে বুঝি?”

 “আজ্ঞে হ্যাঁ, তা’ও একবার যাবো বটে, তবে সে ফের্‌বার সময়, এখন উপস্থিত ইস্কুল বাড়ীটা কেমন হ’ল তাই দেখ্‌তে যাচ্চি।”

 “ও, তা এস’—তবে কি জান, বাবা, লক্ষ্মীর সঙ্গে দেখা ক’র্‌তে যাচ্চ বটে, কিন্তু মেজাজটা বিশেষ ঠাণ্ডা ক’রে যেও—সে কি আর এখন সে লক্ষ্মী আছেরে বাবা; তিন মাস হয়নি এর-ই মধ্যে সে যেন বুড়োটাকে মুটোর মধ্যে পুরে ফেলে, নিজেই মত্ত গিন্নী হ’য়ে ব’সেচে—চক্ষুলজ্জার মাথা একেবারে খেয়েচে—”

 “তাই নাকি—আচ্ছা শরৎবাবুর বয়েস ঠিক্ কত হ’বে, আন্দাজ ক’র্‌তে পারেন?”

 “কি জানি বাবা—কখনও ব’লে, পঁয়তাল্লিশ,—কখনও বলে পঞ্চাশ— তা’সে যতই হোক্‌, বুড়ো কিন্তু খাট্‌তে এখনও কসুর করে না বাবা;—মতিচ্ছন্ন মতিচ্ছন্ন! নৈলে ও বয়সে, আর অত থাক্‌তে, এমন লোক কটা দেখ্‌তে পাওয়া যায় বলত, যে ইচ্ছে ক’রে বেলা সেই দশটার সময় খেয়ে বেরিয়ে পাঁচ-পো-পথ হেঁটে গিয়ে, সমস্ত দিন পাটের দালালি ক’রে সেই সন্ধ্যের সময় বাড়ী আসে। হ্যাঁ, সে তুমিও তো জান’—ব’ল্‌লে আবার আমাকে কি বলা হয় জান’—? বলে, ’কি জান দাঠাকুর—আমি আর কদ্দিন, শেষটা ওটার যাতে খেতে-পর্‌তে কষ্ট কখনও না হয়, তার একটা হিল্লে ক’রে রেখে যাওয়া তো উচিত আমার”—এই

৩৪