পর্য্যন্ত বলিয়া একটি দীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করিয়া দম লইয়া পুনরায় বলিতে লাগিলেন,— “হ্যাঁ, আর এক কথা, সেদিন আমি তোমার নাম ক’রে লক্ষ্মীকে ব’ল্লুম যে—‘লক্ষ্মী, গোকুল তো পাশ দিয়ে বাড়ী এসেছে, তা’ তুই তা’কে লোক দিয়ে ডেকে পাঠা।” এই কথায় ও কি উত্তর কর্লে জান, বাবা?—ঐ উপরি-ই কেবল হাত মুখ নাড়তে খুব শিখেছে কি না, নৈলে, এতে যে লোকের অপমান হয়, সে জ্ঞানও নেই, তা’তে গ্রাহ্যও করেনা—পষ্ট আমার মুখের ওপর জবাব ক’র্লে—‘তা’ আসুক না, আমি কি আস্তে তা’কে বারন করিচি—এলেই তো পারে।” আমি তো বাবা অবাক্ হ’য়ে ব’ল্লুম, বলি, সে কি কথা লক্ষ্মী, শরতের সঙ্গে তার হাজার কেন জানাশোনা থাক্ না, তবু তুই তা’কে নেমন্তন্ন না ক’র্লে সে কি আস্তে পারে? ও ব’ল্লে —‘কেন পারে না, সে যদি না পারে, তা’ হ’লে আমিই বা নেমন্তন্ন ক’র্তে পারি কি ক’রে? কবে আর আমি ওকে নেমন্তন্ন ক’রেচি, তবে ও আমাকে দেখ্তে গেচে? তাই এবার আর তা’ ক’রিনি ব’লে, আস্তে পার্চে না?'—আমিও ব’ল্তে ছাড়িনি বাবা, বল্লুম, ‘ও কি কথা বলিস্ দিদিমণি—তখন আর এখন?’ এই কথায় ও আমায় অবাক্ ক’রে দিয়ে কি ব’ল্লে জান গোকুল, ব’ল্লে ‘কেন তখন কি আর এখন-ই বা কি? এখন কি আমার চারটে হাত বেরিয়েচে, না তার অম্নি-ই কিছু হ'য়েচে?’ এর ওপর আমি আর কি ব’লবো বল——চুপ ক’রে রৈলুম। তাই দেখে হঠাৎ আমার ওপর রাগ ক’রে ব’ল্লে কি—‘সে যা’ হয় তা’ হ’বে চাটুয্যে ম’শাই’ ঠিক্ এম্নি ক’রে বাবা——‘সে যা’ হয় তা’ হ’বে চাটুয্যে ম’শাই, তুমি এখন নিজের কাজ দেখ’গে যাও’—ছুঁড়ির আস্পদ্দার কথা শুনলে বাবা, আমায় বল
৩৫