কিনা ‘চাটুয্যে ম’শাই’— তা’ হ’বেই যে, সেই কথায় আছে না, “কাঙ্গালের বেটী পড়্লো দানাদারের ঘরে— ‘তারপর আর কি বলে যে, তাই হ’য়েচে ওর—কিন্তু এত তেজ বেশী দিন থাক্বেনা বাবা, এ তুমি দেখে নিও—”বলিয়া সত্যই একটী সুদীর্ঘ নিশ্বাস ত্যাগ করিয়া গোকুলের মুখপানে চাহিলেন। গোকুল কুণ্ঠিত হইয়া বলিয়া উঠিল—“না না পণ্ডিত মশাই, আপনি ওটার কথায় মনে কষ্ট ক’র্বেন না—ওটা ঐ রকম-ই, নৈলে ছেলে বেলার ও আমার হাতে কি কম মারটা খেয়েছে!”
“হ্যারে বাবা—তা’কি আর তুই আমায় ব’লে দিবি—আচ্ছা বাবা, অনেক দেরী হ’য়ে গেল—এস’—”
“যে আছে” বলিয়া মাথা হেঁট করিয়া পণ্ডিত মশাইকে প্রণাম করিল। তারপর বাড়ী হইতে বাহির হইয়া পড়িল। রাস্তায় আসিয়া ভাবিল যে, প্রথমে-ই লক্ষ্মীর বাড়ী যাওয়া উচিত—কেননা ফিরিবার সময় হয়ত শরৎবাবু বাড়ী থাকিবেন না। এই ভাবিয়া লক্ষ্মীয় বাড়ীর দিকেই অগ্রসর হইল।
[ ৯ ]
“আজ্ঞে না—লজ্জা আর কি” বলিতে বলিতে গোকুল প্রশস্ত একতলা পাকা বাড়ীর প্রাঙ্গনে পা দিয়াই দেখিল, দালানে বসিয়া লক্ষ্মী একমনে কুট্না কুটিতেছে। দুইজন পুরুষ যে বাড়ী চুকিল, সে তাহা টেরও পাইল না। গোকুল ডাকিল—“কিরে লক্ষ্মী— -কেমন আচিস্?” লক্ষ্মী চাহিয়া দেখিয়াই শশব্যস্তে মাথার কাপড়টি টানিয়া দিতে-দিতে
৩৬