বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৩৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

ঘরে ঢুকিয়া পড়িল। গোকুল হাসিয়া বলিল-“ও কিরে— আমি যে তোর গোকুল দাদা— আমায় চিন্‌তে পার্‌লি নে?”

 লক্ষ্মী ঘরের ভিতর হইতে বহু কষ্টে বাক্যস্ফুট করিয়া বলিল—“তা’ ব”ল্‌বে বৈকি।” তারপর যথাসাধ্য মুখের ভাব বদ্‌লাইয়া একখানি আসন হাতে লইয়া হাসিতে হাসিতে ঘরের বাহিরে আসিল। দালানে স্পাতিয়া দিয়া বলিল—“বোসো।” তারপর স্বামীর মুখপানে চাহিয়া বলিল—“তুমি তো বেশ মানুষ দেখ্‌ছি গা?”

 শরৎবাবু সহজ কণ্ঠে বলিলেন— “কেন বল’ দিকি?”

 “এমন হঠাৎ বাড়ীর মধ্যে না ঢুকিয়ে বাইরে চণ্ডীমণ্ডপে বসিয়ে আমাকে কোন্ খবর দিলে!”

 “ওঃ—এই জন্যে?—তা’তে কি হ’য়েছে; গোকুল তো আমাদের কাছে বাইরের লোক নয়।

 “তা’ নাই-বা হ’ল- আর তা’ নয়-ই-বা কেমন ক’রে বল’।

 এইবার শরৎবাবু পরাজয় স্বীকার করিয়া বলিলেন—“আচ্ছা আচ্ছা, তুমি এখন এক কাজ কর—ভাষাকে জলটল খেতে দাও— আমি ততক্ষণ ঘুরে আসি। বোস’ গোকুল, আমি বেরুচ্ছিলুম কিনা—” বলিতে বলিতেই বাহির হইয়া পড়িলেন।

 এই অবসরে আমরা শরৎবাবুর সম্বন্ধে দু’একটী কথা বলিয়া লই। বয়স ইহার পঞ্চাশ-ই বটে; অনেক দিন হইতেই গোঁফ দাড়ি রাখেন। মাথার মাঝামাঝি একটি মাঝারি রকমের টাক। বর্ণ উজ্জ্বল শ্যাম। অবিনাশ চাটুয্যের একটী কথা বিশেষ ভাবে মিলিয়াছে—তিনি এখনও সত্যই বেশ শক্ত-সমর্থ আছেন, ইহা ভিন্ন, তিনি ইঁহার সম্বন্ধে আরও

৩৭