যাহা-যাহা বলিয়াছেন, সে সমস্ত-ই সত্য, তবে কোনও কিছু রঞ্জিত করিয়া এবং কোনও বিষয় বা সংক্ষেপে বলিয়াছেন, এই মাত্র জানা থাকিলেই চলিবে।
আর এক কথা, আজকাল তাঁহার মানসিক অবস্থাটি খুবই যে ভালএ কথা জোর দিয়া বলিতে পারা যায়; কেননা, ইনি এমন আশা কখনই করেন নাই যে, এ-বয়সে বিবাহ করিয়া স্ত্রীর হতশ্রদ্ধা ব্যতীত এক ফোঁটাও যত্ন ভক্তি লাভ করিতে পারিবেন। তবে যে বিবাহ করিলেন কেন, সে কথা যিনি তাঁহার অবস্থায় না পড়িয়াছেন তাঁহাকে বুঝাইয়া বলিবার চেষ্টা করাই ভুল। সে যাহা হউক, এই তিন মাসের মধ্যেই লক্ষ্মী যে তাঁহার হৃদয়ের শূন্য আসনখানি জোড়া করিয়া বসিয়া তাঁহাকে সদা-সর্ব্বদা কি এক অপূর্ব্ব আনন্দ-সাগরে ভাসাইয়া রাখিবে, এই অত্যল্পকালের মধ্যেই সে যে তাঁহাকে এতটা আপনার করিয়া লইবে, ইহা তিনি স্বপ্নেও বিশ্বাস করিতে পারেন নাই। আজ কাল তাই তিনি স্বেচ্ছায় একটী-একটী করিয়া সংসারের প্রায় সকল ভার-ই তাহার হাতে তুলিয়া দিয়া নিশ্চিন্ত মনে দু’বেলা সন্ধ্যাহ্নিক করিতে বসিতে পারেন এবং কায় মনোবাক্যে এই বলিয়া ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করেন যে, লক্ষ্মী যেন একদিনের জন্যও মনের মধ্যে অশান্তি ভোগ না করে, স্বামী ভক্তির পুরস্কার হইতে সে যেন বঞ্চিত না হয়। এই সময় টপ্ করিয়া দু’এক ফোঁটা অশ্রু ঝরিয়া পড়িয়া কোশার জলের সঙ্গে মিশিয়া যায়; লক্ষ্মী দৈবাৎ দেখিতে পাইলেই বৃদ্ধ স্বামীকে ঠাট্টা করিয়া বলিয়া উঠে—“ওঃ—খুব তোমার ভক্তির জোর যা হোক্।” স্বামী কথন, চুপ করিয়া ঠাট্টাটি হজম করিয়া ফেলেন, আবার কখনও বা আহ্নিক শেষ করিয়া উঠিয়া
৩৮