বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৪৪

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

গলায় বলিল—“লক্ষ্মী, আমি নিজে ব’ল্‌তে না এলে তুই তো যাবিনে বোন, কিন্তু আরো আমার ওপর রাগ কেন ভাই?” বলিতে বলিতেই ঝর্ ঝর্ করিয়া কাঁদিয়া ফেলিল। লক্ষ্মী তাড়াতাড়ি উঠিয়া আসিয়া তাহার একটী হাত ধরিয়া আর্তস্বরে বলিল— “গোকুল দাদা গো—তুমি যে সত্যিই এমন হয়ে গেছ’ তা’ যে বিশ্বাস করতে পারিনি গো—” বলিয়া সেও কাঁদিয়া ফেলিল।

 তারপর তাহার হাত ধরিয়া আনিয়া দালানে বসাইল। গোকুল প্রকৃতিস্থ হইয়া মুখ তুলিল। তারপর ভিজা গলায় বলিল—“আমার শরীর খারাপ হওয়া তো আশ্চর্য্য নয় বোন্—তুই কেন এমন হয়ে গেচিস্ লক্ষ্মী? কোন অসুখ-বিসুখ করে নাকি?

 না বুঝিয়া যাহার মনে ব্যথা দিবার পর হইতে এই চারি মাস কাল অনুতাপে দগ্ধ হইয়া নীরবে আপনার দেহ কালী করিয়াছে, তাহারই চোখে আজ এমনভাবে ধরা পড়িয়া লক্ষ্মী মনে-মনে আপনার এই দগ্ধ হওয়াটার সার্থক হইয়াছে ভাবিয়া ঈষৎ আনন্দ লাভ করিল। মুখে কিন্তু সে ভাব মোটেই প্রকাশ না করিয়া বলিল—“ও তোমার দেখার ভুল গোকুলদা—অনেক দিন আসনি কিনা। সে যা’ হোক, তোমার কিন্তু এমন অবুঝের মত কাজ করলে তো চলবে না গোকুলদা—এতদিন যা’ -ক’রেচ, তা’র তো আর উপায় নেই—কিন্তু এখন থেকে আমি আর তা’ কোন মতেই হ’তে দোবো না —আচ্ছা এর জন্যে পিসি-মা তোমায় বকেন না?”

 গোকুল মাথা হেঁট করিল। লক্ষ্মী বলিল—“সে তো জানি—তোমার সঙ্গে বুড়ী মানুষ কি পেরে ওঠে? —না গোকুল দা, তুমি নিজে না বুঝ্‌লে

৪২