আমিও তো তা’ পার্বো না। আচ্ছা, তুমি-ই বল, কা’র মা-বাপ চিরদিন বেঁচে থাকে;—কিন্তু তোমার মতন এমন ক’রে না খেয়ে খেয়ে কে নিজের অমঙ্গল টেনে আনে বল?” গোকুল মুখ তুলিয়া দেখিল, লক্ষ্মীর চোখে জল। দেখিয়া গোকুলেরও কাঁন্না পাইল। আর্দ্রকণ্ঠে বলিল— “তা’ মানি বোন, কিন্তু আমার মতন অভাগা সংসারে আর ক’জনকে দেখ্তে পাওয়া যায় বল্ দিকি লক্ষ্মী?—‘গোকুলের বিয়ে হবে’—মায়ের যে কত বড় সাধ ছিল, সেকথা তুই যেমন জানিস্ তেমন তো অপরে আর কেউ জানেনা ভাই; কিন্তু বিয়ে তো দূরের কথা, দশ টাকা বৃত্তি পেয়ে পাশ -হওয়ার কথাটাও মা আমার শুনে যেতে পেলে না-একি কম দুঃখের কথা বোন—” গোকুল আবার কাঁদিল।
এই সময় গোকুলের মড়ার মত পাংশু মুখখানি দেখিয়া লক্ষ্মীর বুকের ভিতরটা কি যে করিতে লাগিল বাহির হইতে অন্যে তাহা বুঝিবে কেমন করিয়া? সে নিজের আঁচল দিয়া তাহার মুখখানি মুছিয়া দিতে-দিতে বলিল—“চুপ কর’ গোকুল দা—আমারও তো বাপ নেই গোকুল দা—”
শরৎবাবু বাড়ী ছিলেন না; এখন বাড়ী ঢুকিয়া আজ অনেক দিনের পরে দু’জনকে এই ভাবে বসিয়া কাঁদিতে দেখিয়া লক্ষ্মীর এতদিনকার কথাটী ভাবিয়া মনে-মনে স্বস্তির একটা নিশ্বাস ফেলিলেন এবং মুখে কুসুমের মৃত্যুর কথাটা স্মরণ করিয়া অনেক দুঃখ প্রকাশ করিলেন। তারপর লক্ষ্মী উঠিয়া ও-ঘরে চলিয়া যাইবার পর কথা প্রসঙ্গে বলিয়া উঠিলেন —“তা’ এতদিন আসনি কেন গোকুল? সেই যে কি ঝগ্ড়া ক’রে বেরিয়ে গিছ্লে তারপর থেকে ও কি আমায় কম জ্বালাতন ক’রেচে—” এই পর্য্যন্ত বলিয়া একবার দেখিয়া লইলেন, লক্ষ্মী ও-ঘর হইতে বাহির
৪৩