মাঝে-মাঝে তাঁহার নাড়ী টিপিয়া, কাশির শব্দ শুনিয়া এবং কফের বর্ণ পরীক্ষা করিয়া যাইত। আজ অত্যন্ত বাড়াবাড়ি হইয়াছে শুনিয়া, ভোর হইতেই এ বাড়ী আসিয়া ডাক্তার বাবুকে সকাল-সকাল আসিবার জন্য অনুরোধ করিয়া লোক পাঠাইয়া দিয়াছিল।
সরস্বতী গোকুলকে কাছে বসিতে বলিয়া, ক্ষীণ কণ্ঠে বলিলেন— “আর জন্মে তুমি আমার পেটের ছেলে ছিলে গোকুল।” বলিয়াই খুক্-খুক্ করিয়া দুইবার কাসিলেন। গোকুল বলিয়া উঠিল,—“ও কথা আজ তো তুমি নতুন ব’ল্ছ না মাসি-মা!”
তিনি বলিলেন,—“তা’ জানি বাবা। কিন্তু আজ আমার মন এ-কথা ঠিক যেমন ক’রে ব’লছে গোকুল, এমন সত্যি ক’রে বোধ করি আর কখনও বলিনি—ব’ল্তে পারিনি; এ তুমি বেশ জেন বাবা।” বলিয়া আবার কাসিলেন।
গোকুল কুণ্ঠিত হইয়া বলিল,—“ও কথা থাক্ না মাসি-মা।”
“না বাবা, আরো তুমি থাকতে বল? আমি আর কতক্ষণ গোকুল; জানি, তোমরা সব এ কথা মুখ দিয়ে ব’ল্তে আমায় মানা ক’র্বে, কিন্তু মুখে ‘ম’রবো না” ‘ম’র্বে না’ ব’ল্লেই মানুষ যে না মরে তা’ তো নয় বাছা।” বলিয়া কাশি আসিতেই চুপ করিলেন। কাশি হইল না। এতগুলি কথা বলার পরিশ্রমে হাঁপাইয়া পড়িয়াছিলেন; একটু জিরাইতে লাগিলেন। এই অবসরে গোকুল বলিয়া উঠিল— “সে যা’ হোক্ মাসি-মা তুমি এখন বেশী বোকোনা।”
"না বাবা, আর তার শক্তিও বড় আমার নেই, তাই কথাগুলো শেষ ক’রে ব’লতে পারেই নিশ্চিন্ত হই! দ্যাখ’ বাবা, এই একটী কথাই আমি
৪৭