বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৫

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

বলিয়া নিজে তাহার অপর হাতখানি অতিশয় যত্নের সহিত ধরিয়া বাগান হইতে বাহির করিয়া লইয়া যাইতে যাইতে সমবেদনা পরিপূর্ণ কণ্ঠে লক্ষ্মীকে প্রশ্ন করিল,—“খুব লেগেছে, নারে লক্ষ্মী?” লক্ষ্মী গুন্ গুন্ করিয়া কাঁদিতে কাঁদিতে হাঁ’ বলিল কি ‘না’ বলিল, তাহা স্পষ্ট করিয়া বুঝা গেল না।

 বাহিরে আসিয়া একটী পুস্করিণীর ধারে গিয়া গোকুল নিজের কাপড় ভিজাইয়া অতি সন্তর্পণে লক্ষ্মীর ঠোঁটের রক্ত মুছিরা দিতে লাগিল। ইহার পর তাহাকে লইয়া যখন তাহাদের বাড়ীর সদর দরজায় আসিয়া দাঁড়াইল তখন, ঝড় থামিয়া গিয়াছে; সন্ধ্যার আব্‌ছা অন্ধকার ধীরে-ধীরে ঘন হইয়া উঠিয়াছে;—পাখীরা গাছে-গাছে তাহাদের স্বাভাবিক সন্ধ্যাস্তোত্র পাঠ করিতে আরম্ভ করিয়াছে। লক্ষ্মীর বিধবা মা সরস্বতী তখন মেয়ের আসা পথ চাহিয়া সদর দরজায় বসিয়াছিলেন এবং বাড়ীর ভিতর দাওয়ার বসিয়া সত্যবাবু গাঁজার কলিকায় আগুন ধরাইবার চেষ্টা করিতে ছিলেন। এমনি সময়ে মেয়েকে ঐ অবস্থায় পাইরা এবং গোকুলের মুখে সমস্ত বৃত্তান্ত শুনিয়া সরস্বতী গোকুলকে শত সহস্র আশীর্ব্বাদ করিতে লাগিলেন। সহসা ছর্-ছর্ করিয়া বৃষ্টি আসিয়া পড়িতেই সরস্বতী তাহাদের চারজনকেই বাড়ীর মধ্যে ডাকিয়া লইলেন।


[ ২ ]

 মিত্তিরদের এই গোকুল ছেলেটি ওপাড়ার বোস-গিন্নী মনোরমার পিত্রালয়ে কলিকাতায় থাকিয়া হেয়ার ইস্কুলে পড়ে। এ সম্বন্ধে যে একটু খানি পূর্ব্ব-ইতিহাস আছে তাহা এইখানেই বলিয়া লই।