বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৫২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

এই কথাটি চিরদিন মনে রাখ্‌বি?” এই বলিয়া আপনার শীর্ণ হস্তে তাহার একটী হাত চাপিয়া ধরিলেন। গোকুল বাষ্পরূদ্ধ কণ্ঠে বলিল— “রাখ্‌বো বৈকি মাসি মা—আর ও ছাড়া আমারই বা তেমন আপনার লোক আর কে রৈল বল?”

 “তা যা’ ব’লেছ গোকুল—ও যে তোমার কত বড় আপনার, সে কথা আমি যেমন জানি, তেমন জানা সংসারে আর তো কেউ জানেনা বাবা”—বলিতে বলিতে ডুগ্‌রাইয়া কাঁদিয়া উঠিলেন।

[ ১২ ]

 সরস্বতী সত্য কথাই বলিয়াছিলেন, তাঁহার আর সময় নাই। সেই দিন-ই রাত দু’টার সমর তাঁহার প্রাণ-বায়ু বহির্গত হইয়া গিয়াছিল; ওদিকে কয়েক দিন পূর্ব্বে কলেজ খুলিয়া গিয়াছিল, ইহা ভিন্ন আর বাড়ী বসিয়া থাকিবার-ই বা আবশ্যক কি, এই ভাবিয়া গোকুল আজ প্রায় পঁচিশ দিন হইল, কলিকাতার চলিয়া গিয়াছিল। আজ আবার মাসিমার শ্রাদ্ধোপলক্ষে বাড়ী আসিল।

 শরৎবাবু খুব ঘটা করিয়া শ্বাশুড়ীর শ্রাদ্ধের আয়োজন করিয়াছিলেন। দ্বাদা সত্য চরণ বেশ করিয়া গাঁজার দম দিয়া চক্ষু রক্তবর্ণ করিয়া নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদিগকে আহ্বান করিলেন। গোকুল অন্যান্য নিমন্ত্রিত ব্যক্তিদিগের মত আসিয়া নিমন্ত্রণ রক্ষা করিয়াই পুনরায় কলিকাতায় চলিয়াগেল।

 সে যাহা হউক, এদিকে কিন্তু বড়ই একটী আশ্চর্য্যের বিষয় এই হইরাছে যে, ভগিনীর দেহ সৎকার করিয়া আসিয়া সেই যে দাদা ঘণ্টা

৫০