লাগিল। তাহাতে সে দুই চক্ষে সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার দেখিতে লাগিল
অবশেষে অনেক ভাবিয়া চিন্তিয়া আজ ধীরে-ধীরে মামার সুমুখে গিয়া ভয়ে-ভয়ে বলিল, মামাবাবু, আমি একটা কথা বল্বো; বল রাখবে?”
মামাবাবু এখন বাড়ীর উঠানের শিউলি গাছের তলায় বসিয়া অতি সন্তর্পণে গাঁজা সাজাইয়া কলিকায় ভরিতেছিলেন। মুখ তুলিয়া চাহিয়া বলিলেন—“কি বল্না।”
“তোমার আর এ বাড়ী থাকা হ’বে না—আমি তোমায় সঙ্গে ক’রে ও-বাড়ী নিয়ে যাবো—ওখানেই তোমাকে থাক্তে হবে।”
তিনি হাসিতে হাসিতে বলিলেন,— “দূর পাগ্লী—সে তুই বল্বি, আমি জানি; তোদের টাকা আমি কেন খাব, মা? তবে যে তোর বিয়ের সময় আর সরোর জন্যে, শরৎ বাবাজির টাকা নিতে রাজি হয়েছিলুম কেন, গ্রামের লোক তার কি বুঝ্বে লক্ষ্মী? লোকে নিন্দে কর্’বে ব’লে, আমি তো আর সেই ভয়ে নিজের জামাইয়ের মনে কষ্ট দিতে পারিনে। তুই সরে যা—ধোঁয়া লাগ্বে।” বলিয়া সোঁ করিয়া কলিকায় টান দিয়া খক্ খক্ করিয়া কাসিতে কাসিতে মুখ রাঙা করিয়া ফেলিলেন। কাশির বেগ কম পড়িলে লক্ষ্মীর দিকে চাহিয়া পুনরায় বলিলেন,—“কিরে, তুই যে এখনও দাঁড়িয়ে রৈলি?—না মা না, সে তুই যা-ই বল্, আমি কিন্তু কোন মতেই তা’ পারবো না; আর তা’ ছাড়া পরশু রবিবারে আমি যে কাশী যাবো ঠিক্ ক’রিচি—আর তা’ যাবোও নিশ্চয়-ই।”
৫২