লক্ষ্মী ছুটিয়া উঠানে আসিতে আসিতে বলিল—“কে, হরিপদ দা?”
বাহির হইতে হরিপদ হাঁপাইতে-হাঁপাইতে বলিল—“হ্যাগো দিদি— মণি—শীগ্গীর দরজা খোলকি ঘুম বাপ্—”
দরজা খুলিয়া দিয়া বৃদ্ধের মুখখানি রাঙা হইয়া গিয়াছে দেখিয়া লক্ষ্মী অত্যন্ত লজ্জিত হইয়া ঘরে আনিয়া তাহাকে নিজে হাতে পাখা দিয়া বাতাস করিতে লাগিল। বৃদ্ধ বাধা দিতে গেল, লক্ষ্মী এক কথায় তাহাকে পরাস্ত করিয়া দিল।
কিছুক্ষণ পরে হরিপদ লক্ষ্মীর একটা কথার প্রত্যুত্তরে বলিল—“না দিদিমণি—এখন আর সে চেহারা নেই—তা’ হ’বেই যে, অনেক দিন ভুগেছিল কি না—এখন কিন্তু বেশ হ’য়েচে—
বৃদ্ধের হাঁক-ডাকে ওদিকে তখন খেদীর মায়ের কাঁচা ঘুম ভাঙ্গিয়া বাওয়ায় সে মুখখানি ‘হাঁড়ি’ করিয়া দালানে আসিয়া বসিয়াছিল। বৃদ্ধের কথাটা তাহার গায়ে সহিল না। বলিয়া উঠিল—“হ্যাঁগো হ্যাঁ—আজ আমিও হাটে যাবার সময়ে দেখে এসেচি—কিন্তু যাই বল বাবু—আমাদের মা’র কাছে সে কিন্তু লাগে না!” হরিপদ কুণ্ঠিত হইয়া কি একটা বলিতে গেল। লক্ষ্মী উভয়কেই বাধা দিয়া ঝিকে উদ্দেশ করিয়া বলিল—“তুই আর জ্বালাস্নে হেমা—থাম্।”
হেমা হঠাৎ যেন হাতাহাতি করিবার উপক্রম করিয়া বলিল—“কা’র ভরে থাম্বো মা?—তুমি নিজের রূপ দেখতে পাওনা ব’লে, অন্য লোকেও তা’ কি পাবে না ব’লতে চাও; তুমি যেমন দেহের অযত্ন কর মা, এমন আর কোথাও কোন মেয়েমানুষকে ক’র্তে দেখিনি, মাইরি।”
লক্ষ্মী তাহার এই ঝিটীর স্বভাব ভালরূপেই জানিত। বিরক্তভাবে
৫৬