বলিল—“ক’টা মানুষ দেখেচিস্ তুই মা? থাম বাবু, সব সময় ভাল লাগে না।”
ভাল যে তাহার লাগে না, হেমা তাহা নিজেও বুঝিত সুতরাং চুপ করিয়া গেল।
লক্ষ্মী পাল্কী হইতে নামিয়া বাড়ী ঢুকিয়া শিঁড়ি বাহিয়া উপরে আসিয়া দেখিল, মনোরমাও আসিয়াছেন। দেখিয়া সে প্রথমে তাঁহাকে, পরে নারায়ণীকে প্রণাম করিল। মনোরমা আশীর্ব্বাদ করিলেন এবং নারায়ণী আপনার বধুমাতার মুখপানে চাহিলেন। ইঙ্গিত বুঝিয়া বৌমা লক্ষ্মীকে প্রণাম করিতে গেল, লক্ষ্মী তাহাকে মধ্যপথে ধরিয়া ফেলিয়া বলিল— “থাক্ ভাই—আমাকে তোমার নমস্কার কর্তে নেই—”
নারায়ণী প্রতিবাদ করিয়া কি একটা বলিতে যাইতেছিলেন, লক্ষ্মী সে কথা চাপা দিয়া মৃদু হাসিয়া বলিল-“আচ্ছা পিসি মা, তোমার বৌমা আমায় চিন্তে পারে কি না জিজ্ঞেস্ কর’তো—”
“তুই নিজেই কর্না মা” এই বলিয়া নারায়ণী কেমন এক প্রকার দৃষ্টিতে বৌমার মুখপানে চাহিয়া বলিলেন- “পার্বে পার্বে—মাকে আমার তোরা সব কি মনে করিস্ বল্দিকি?”
লক্ষ্মী মুখ টিপিয়া-টিপিয়া হাসিতে হাসিতে প্রশ্ন করিল— “কি ভাই, আমাকে চিন্তে পার?”
এইবার মনোরমা কথা কহিলেন; স্নেহ-মিশ্রিত কৃত্রিম শ্লেষের স্বরে বলিলেন—“হায় হায়! শুধু চিন্তে পারে! সে দিকে মেয়ে আমাদের খুব গো। বাপের বাড়ী গিয়ে লক্ষ্মীর সুখ্যাতি মেয়ের মুখে ধরে না, জান দিদি।
৫৭