বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৬০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী

বাপ যে অত টাকার গয়না দিলে, তুমি আমি যে দিলুম, তা’তে মেয়ের মন পেলুম না;—সে-ই যে ওর চেয়ে একটু বড়, কাদের সেই সুন্দর বৌটী—বিয়ের সময় যে ওকে “কাণ” উপহার দিয়েছিল, সে ওর কে হয় পিসি-মা, তাই ওকে ব’ল না!”

 এই বলিয়া তিনি স্নেহমাখা স্নিগ্ধ দৃষ্টিতে ভাইঝির আরক্ত মুখখানির পানে চাহিয়া বলিলেন - “সাধ ক’রে বলে, যে, মেয়েছেলের মত নেমখারাম জাত আর দুনিয়ায় নেই।” বলিয়া মুখ টিপিয়া হাসিতে লাগিলেন।

 এই সময় কি জানি কেন, লক্ষ্মীর মুখখানি ক্ষণেকের জন্য যে ছপ্‌ করিয়া শুকাইয়া গেল, কেহই তাহা লক্ষ্য করিল না।

 নারয়ণী বধুমাতার পক্ষ সমর্থন করিয়া হাসিতে হাসিতে বলিলেন— “তা’ এতে আর বৌমায়ের এমন দোষ কি হ’য়েছে দিদি?” বলিয়াই জানিনা এ ঘটনার সঙ্গে কোন্‌ সাদৃশ্য থাকায় নিজের ভাজ স্বর্গীয়া কুসুমের কথাটী তাঁহার মনে পড়িয়া গেল; হঠাৎ কাঁদিয়া উঠিলেন, “আমার কুসমিও কি ঠাকুর-ঝি ব’লে আমাকে কম ভালবাস্‌তো গো—”

 এমন জানিলে ভাই-ঝির সঙ্গে এরূপ পরিহাস করিতেন না ভাবিয়া মনোরমা লজ্জিত ও ব্যথিত হইলেন এবং আর্দ্রকণ্ঠে দিদিকে সান্ত্বনা দিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন। ওদিকে লক্ষ্মী অমিয়ার হাত এরিয়া ও-দিকের একটা ঘরের মধ্যে গিয়া প্রবেশ করিল।


[ ১৪ ]

 মাস দেড়েক পরে একদিন দুপুর বেলা, নারায়ণী লক্ষ্মীর সাহাযে বৌমাকে পত্র লিখিতে আদেশ দিয়া আপনার ঘরে যাইয়া শুইয়া পড়িয়া

৫৮