বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লক্ষ্মী - ভূপেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী (১৯২০).pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লক্ষ্মী


ছিলেন। এখন তাহারা যে ঘরটীর মধ্যে বসিয়াছিল, তাহা বৌ’মায়ের ঘর বলিয়া নির্দ্দিষ্ট হইয়াছে।

 আজ কাল উভয়ের বেশ ভাব হইয়া গিয়াছে। ইতিপূর্ব্বে অমিয়ার নামে লক্ষ্মীর বুকের ভিতরটায় কিসের যে সেই আশঙ্কা হইত, আজ কাল তাহা আর হয় না। যাহা হয়, তাহা পূর্ব্বের মত মারাত্মক নহে-বরং প্রীতি-দায়ক। পূর্ব্বে লক্ষ্মী ভাবিত, অমিয়া হয় তো তাহার গতিবিধি লক্ষ্য করিয়া করিয়া তাহার প্রতি এমন একটা ধারণা করিয়া বসিবে যাহার ফলে সে প্রথম-প্রথম রাগ করিবে, তারপর তারপর—হয় ত এ বাড়ীর সঙ্গে লক্ষ্মীর সকল সম্পর্ক চিরদিনের জন্য লুপ্ত হইয়া যাইবে এবং ইহার-ই ফলে আরও যে কি হইবে তাহা কে বলিতে পারে?—কিন্তু আজ কাল লক্ষ্মী ইহা বেশ বুঝিয়াছে যে, স্থান-কাল-পাত্রী হিসাবে সম্ভব-হৌক্ আর না-ই হৌক্, অমিয়া কিন্তু কলিকালের মেয়ে নহে; লক্ষ্মীর কথাবার্ত্তা ও আচার ব্যবহারের মধ্যে দৈবাৎ একটু আধ্‌টু বৈলক্ষণ্য লক্ষ্য করিয়া আন্দাজে কিছু একটা ধারণা করিয়া লইয়া তাহার প্রতি রাগ বা অন্য কিছু করা অমিয়ার দ্বারা কখনই সম্ভব হইতে পারে না; উপরন্তু লক্ষ্মী যদি উপর্য্যুপরি তিনদিন এ বাড়ী আসিয়া তাহার সহিত সাক্ষাৎ না করে, তবে, সে যে তাহার উপর অত্যন্ত অভিমান করিবে সে বিষয়-লক্ষ্মীর কিছুমাত্র সন্দেহ নাই; সুতরাং, পাছে তাহার কোন কার্য্যের জন্য অমিয়ার মনে ব্যথা লাগে, এই ভয়ে, লক্ষ্মী আজকাল সদাই শঙ্কিত এবং সেই জন্যই সে আনন্দিত।

 ঘরের সানের মেজের উপর পা ছড়াইয়া বসিয়া কোলের উপর চিঠির কাগজ এবং খাতাটী তুলিয়া লইয়া দোয়াতে

৫৯