পত্রপাঠ শেষ করিয়া অমিয়া বলিল,—“একি রকম চিঠি দিদি—আমি তো সব কথা—ওকি! সত্যিই তোমার অসুস্থ ক’রেছে নাকি?”
লক্ষ্মী বলিল—“হুঁ বোধ হয়—দেখি-দেখি কি রকম লিখ্লি”— পত্রটী তাহার হাত হইতে লইল। অমিয়ার পড়ার দোষে সমস্ত কথা ঠিক্ বুঝা যায় নাই বলিয়া আর একবার মনে-মনে পাঠ করিল। লেখার দোষেই হৌক অথবা আর যে কোন কারণেই হউক এবারেও সব কথা স্পষ্ট বুঝা গেল না। আবার পড়িতে আরম্ভ করিল। কতকটা পড়া হইয়াছে, এমন সময় অমিরা বলিয়া উঠিল—“থাক্ দিদি, তোমার অসুস্থ ক’রেছে— ও যা’ হয়েছে তাই ভাল। আজ না লিখ্লেই হ’তো—ওকি!”
লক্ষ্মীও হঠাৎ তাহার সুরে সুর মিলাইয়া——“হ্যাঁ অমি, তুই ঠিক্ বলিচিস্—অসুস্থ হ’লে কি চিঠি লেখা যায়—আজ লিখতে না বলেই হোতো—দূর এ চিঠি ঠিক্ হয় নি—” বলিয়াই ফাঁৎ করিয়া ছিঁড়িয়া টুক্রা-টুক্রা করিয়া জানালা দিয়া ফেলিয়া দিল।
অমিয়া ক্ষুণ্ণ কণ্ঠে বলিল—“হয়েছিল তা’ আবার ছিঁড়্লে কেন ভাই—যা’ হ’য়েছিল তা’ই পাঠিয়ে দিলেই তো হোতো—তুমি যেন ভাই কি!”
লক্ষ্মী বলিল—“দূর্ ও-চিঠি যে ভাল হয় নি।”
[১৫]
গ্রামে ইংরাজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হইবার পর হইতে অবিনাশ পণ্ডিতের পাঠশালা উঠিয়া গিয়াছিল। তিনি এখন 'গুরুন’শাই'এর পরিবর্ত্তে নবম শ্রেণীর ছাত্রদের নিকট ‘স্যার’ উপাধি প্রাপ্ত হইয়াছেন।
৬৫