পাতা:লঘুগুরু প্রবন্ধাবলী - রাজশেখর বসু.pdf/৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮৪
লঘুগুরু

পেয়েছে। ‘আজিকালি, চাউল, একচেটিয়া, লতানিয়া’ স্থানে ‘আজকাল, চাল, একচেটে, লতানে’ চলছে।

 (৪) সংস্কৃত শব্দের প্রয়োেগ উভয় ভাষাতেই অবাধ। কিন্তু সাধারণত চলিতভাষায় কিছু কম দেখা যায়। এই প্রভেদ উভয় ভাষার প্রকারগত নয়, লেখকের ভঙ্গীগত, অথবা বিষয়ের লঘুগুরুত্বগত।

 (৫) আরবী ফারসী প্রভৃতি বিদেশাগত শব্দের প্রয়ােগ উভয় ভাষাতেই অবাধ, কিন্তু চলিতভাষায় কিছু বেশী দেখা যায়। এই ভেদও ভঙ্গীগত, প্রকারগত নয়।

 (৬) অনেক লেখক কতকগুলি সংস্কৃত শব্দের মৌখিকরূপ চলিতভাষায় চালাতে ভালবাসেন, যদিও সেসকল শব্দের মূল রূপ চলিতভাষার প্রকৃতিবিরুদ্ধ নয়। যথা—‘সত্য, মিথ্যা, নূতন, অবশ্য’ না লিখে ‘সত্যি, মিথ্যে, নতুন, অবিশ্যি’। এও ভঙ্গী মাত্র।

 উল্লিখিত লক্ষণগুলি বিচার করলে বােঝা যাবে যে সাধুভাষা অতি ধীরে ধীরে মৌখিক শব্দ গ্রহণ করছে, কিন্তু চলিতভাষা কিঞ্চিৎ ব্যগ্রভাবে তা আত্মসাৎ করতে চায়। সাধুভাষার এই মন্থর পরিবর্তনের কারণ—তার বহুদিনের নিরূপিত পদ্ধতি। চলিতভাষার যদৃচ্ছা বিস্তারের কারণ―নিরূপিত পদ্ধতির অভাব। একের শৃঙ্খলার ভার এবং অন্যের বিশৃঙ্খলা উভয়ের মিলনের অন্তরায় হয়ে আছে। যদি লৈখিকভাষাকে কালােপযােগী লঘু শৃঙ্খলায় নিরূপিত করতে পারা