বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/১০

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
লাল সিংহ।

বিশাল দেশের তাহারাই আদিম অধিবাসী। লব্ধপ্রতিষ্ঠ ঐতিহাসিকগণের মতে আর্য্যগণের শুভাগমনের বহু পূর্ব্বে অনার্য্যগণ মধ্যএসিয়ার সমীপবর্ত্তী দেশ হইতে আসিয়া ভারতবর্ষে উপনিবেশ স্থাপন করিয়াছিল। হিংস্র জন্তুর কবল হইতে জঙ্গলাকীর্ণ ভূভাগ অধিকার করিয়া সেই স্থানে মানব জাতির অধিকার বিস্তার করা যদি গৌরবের কার্য্য হয়, তবে অনার্য্যগণ আর্য্যজাতির অপেক্ষা বহু অধিক পরিমাণে সেই গৌরবের অধিকারী।

 আর্য্য জাতির আদি গুরু মনুর মতে “স্থানুচ্ছেদস্য কেদারম্।” এই ঋষিবাক্য সত্য হইলে, সুজলা, সুফলা আর্য্যদেশ অনার্য্যগণের। আর্য্যগণ এদেশের প্রবাসী। “বীর ভোগ্যা নিত্য বসুন্ধরা” এই কবিবাক্যের সার্থকতা প্রতিপন্ন করিয়া আর্য্যগণ আদিম অধিবাসী অনার্য্যগণকে গহন কানন ও শ্বাপদসঙ্কুল পার্ব্বত্য দেশে নির্ব্বাসিত করিয়া এদেশে আত্মপ্রতিষ্ঠা স্থাপন করিয়াছিলেন।

 আর্য্যগণ তাঁহাদের রচিত গ্রন্থে সমকালবর্ত্তী অনার্য্য জাতি বা অনার্য্য সমাজের কোন সুনিপুণ চিত্র রক্ষা করেন নাই। ভারতের সীমায় পদার্পণ করিয়াই আর্য্যগণকে অনার্য্য জাতির সহিত ঘোরতর সংগ্রাম করিতে হইয়াছিল। সুদীর্ঘকাল ধরিয়া এই দুই জাতির মধ্যে ঘোরতর বিরোধ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলিয়াছিল। এই প্রকার জাতীয় কলহ উপলক্ষে উভয় জাতির মধ্যে পরস্পরের প্রতি হিংসা নিরতিশয় প্রবল হইয়া উঠিয়াছিল। তাহার ফলে আর্য্য সাহিত্যে অনার্য্য জাতির চরিত্র নিরতিশয় কৃষ্ণবর্ণে চিত্রিত হইয়াছে। আর্য্য জাতির চিরঘৃণিত অসুর, রাক্ষস, বানর প্রভৃতি যে এই অনার্য্য জাতির মলিন চিত্র তদ্বিষয়ে মতদ্বৈধ নাই। অনার্য্যগণকে নিপীড়িত করা আর্য্যগণ ধর্ম্ম বলিয়া মনে করিতেন। এই প্রকার