প্রথম অবস্থায় জঙ্গলমহলের অন্য স্থানেও রাজ্যাধিকার লইয়া বিবাদের সৃষ্টি হইয়াছিল। ইংরাজী ১৭৫২ খৃষ্টাব্দে জঙ্গলমহলের প্রধানতম রাজ্য পঞ্চকোটের রাজা গরুড়নারায়ণ পারিবারিক বিপ্লবে নিহত হইয়াছিলেন। গরুড়নারায়ণের জ্যেষ্ঠ পুত্র ভিখনলাল পিতার জীবদ্দশায় লোকান্তরিত হইয়াছিলেন। মুনিলাল নামে ভিখনলালের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক পুত্র ছিল। রাজা গরুড়নারায়ণের জীবনান্তে রাজ্যের চিরন্তন জ্যেষ্ঠাধিকার প্রথামূলে মুনিলাল রাজ্যের দাবি করিলেন। এদিকে আবার গরুড়নারায়ণের অপর পুত্র মোহনলাল রাজ্যের দাবি করিয়া বসিলেন। এই রাজ্যাধিকার লইয়া মুনিলাল ও মোহনলালের মধ্যে যুদ্ধের আয়োজন চিলতে লাগিল। রাজ্যের প্রবল লোকসমূহ এক এক পক্ষ আশ্রয় করিলেন। এই উপলক্ষে পঞ্চকোট রাজ্যে বিষম অশান্তির অগ্নি জ্বলিয়া উঠিল। শেষে দেশে ইংরাজশক্তি প্রতিষ্ঠিত হইবার পরে ইংরাজ সরকারের প্রতিনিধি হিগিনসন্ সাহেব বিশেষ অনুসন্ধান করিয়া মুনিলালের দাবি গ্রাহ্য করিয়াছিলেন। এবং তদনুসারে খ্রীষ্টীয় ১৭৭১ সালে মুনিলাল রাজা রঘুনারায়ণ নামে রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হইয়াছিলেন। জঙ্গলমহলে রাজ্যাধিকার লইয়া রাজপরিবারের মধ্যে বিবাদ ও যুদ্ধ তৎকালে প্রতিনিয়ত সংঘটিত হইত।
খৃষ্টীয় ১৭৯৮ সালে বরাহভূমের রাজা রঘুনাথনারায়ণের মৃত্যু হয়। তাঁহার দুই পুত্র ছিলেন। তন্মধ্যে জ্যেষ্ঠের নাম গঙ্গাগোবিন্দ সিংহ ও কনিষ্ঠের নাম মাধো সিংহ। কনিষ্ঠ মাধো সিংহ মৃত রাজার প্রধানা মহিবীর গর্ভজাত ও জ্যেষ্ঠ গঙ্গাগোবিন্দ কনিষ্ঠা মহিষীর গর্ভজাত ছিলেন। ইতিপূর্ব্বে যে কারণে রঘুনাথ ও লছমন