সিংহের মধ্যে বিবাদ হইয়াছিল, সেই কারণে গঙ্গাগোবিন্দ ও মাধো সিংহের মধ্যে রাজ্যাধিকার লইয়া বিবাদ উপস্থিত হইল। গঙ্গাগোবিন্দ বয়োজ্যেষ্ঠ বলিয়া এবং মাধো সিংহ প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত বলিয়া রাজ্যে দাবি করিলেন। তৎকালে গঙ্গাগোবিন্দের বয়স ষোড়শ বৎসর ও মাধো সিংহের বয়স পঞ্চদশ বৎসর ছিল। উভয়েই বিলক্ষণ বুদ্ধিমান ও অস্ত্রচালনায় সুপটু ছিলেন। এবম্প্রকার অবস্থায় তাঁহাদের পূর্ব্বপুরুষগণ যে নীতির আশ্রয় গ্রহণ করিয়াছিলেন, তাঁহারাও সেই নীতির অনুসরণ করিলেন। আইন আদালতের বিচার অপেক্ষা অসির বিচার তাঁহারা ভালরূপ হৃদয়ঙ্গম করিতেন। সুতরাং সমরক্ষেত্রে স্ব স্ব দাবি প্রতিষ্ঠিত করিবার জন্য উভয় পক্ষ আয়োজন করিতে আরম্ভ করিলেন।
এই গৃহবিবাদ উপলক্ষে রাজ্যের যাবতীয় শক্তিশালী পদস্থ ব্যক্তি এক এক পক্ষ অবলম্বন করিলেন। মৃতরাজা রঘুনাথের ভ্রাতা লছমন সিংহের পুত্র গঙ্গানারায়ণ কনিষ্ঠ মাধো সিংহের পক্ষাবলম্বন করিলেন। গঙ্গানারায়ণের পিতা প্রধানা মহিষীর গর্ভজাত বলিয়া রাজ্যে দাবি করিয়াছিলেন; এবং বাহুবলে রঘুনাথকে রাজ্যচ্যুত করিবার চেষ্টা করিয়া বিফলমনোরথ হইয়াছিলেন, তাহা ইতিপূর্ব্বে বিবৃত হইয়াছে। বরাহভূমের জনসাধারণের ন্যায় গঙ্গানারায়ণ তাঁহার পিতার দাবি যুক্তিযুক্ত বলিয়া মনে করিতেন। সুতরাং মাধো সিংহের দাবি যুক্তিযুক্ত বলিয়া তিনি সহজে বিশ্বাস করিলেন। রঘুনাথের বংশের প্রতি তাঁহার হৃদয়ের বিদ্বেষ-বহ্ণি নিয়ত ধূমায়িত হইতেছিল। বর্ত্তমান ঘটনার বহুপরে ১৮৩২ সালে সেই বহ্নি প্রজ্জ্বলিত হইয়া বরাহ-রাজ্য ছারখার করিয়াছিল। ইতিহাসবিশ্রুত গঙ্গানারায়ণী হাঙ্গামা