জাতীয় বিদ্বেষের ফলে যে অপরাধে আর্য্য জাতীয় অপরাধী সামান্য অর্থদণ্ডে অব্যাহতি লাভ করিত, সেই অপরাধে অনার্য্য অপরাধীর প্রতি শিরশ্ছেদ ও তুষানলের পর্য্যন্ত ব্যবস্থা বিহিত হইত। আর্য্যগণের এই প্রকার সাম্যবিরহিত কঠোর নীতি অদ্যাপি আর্য্য ব্যবহার শাস্ত্রের প্রতি পত্র কলঙ্কিত করিতেছে।
আর্য্যগণ অনার্য্যগণকে হিংস্র জন্তুর ন্যায় বর্জ্জনীয় বলিয়া মনে করিতেন। শিক্ষা দান করিয়া ক্রমশঃ অনার্য্যগণের চরিত্র সম্মার্জিত করিবার কোন বিশেষ চেষ্টা আর্য্যগণ কখন করিয়াছিলেন বলিয়া মনে করিবার কারণ নাই। গভীর কাননে আর্য্যোচিত তপস্যানিরত অনার্য্যের শিরশ্ছেদ করিয়া রামচন্দ্র ধর্ম্ম-রাজ্য প্রতিষ্ঠার পথপ্রদর্শক হইয়াছিলেন। শিক্ষা দীক্ষায় অনার্য্যগণ কিসে উন্নত হইয়া ক্রমশঃ আর্য্য সমাজের একাঙ্গীভূত হইতে পারে, তদ্বিষয়ে মনোযোগী হইয়া সমাজ গঠনের প্রয়াস কোন আর্য নৃপতি কস্মিনকালে করেন নাই।
পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রভাবে আর্য্য জাতির অনার্য্য দ্বেষ নিরাকৃত হইয়াছে। উদার নীতিমূলক পাশ্চাত্য শিক্ষা এদেশে প্রবর্ত্তিত হইবার পূর্ব্বাবধি বৌদ্ধ ও বৈষ্ণব ধর্ম্মের উদারনীতি অনার্য্যগণের প্রতি আর্য্য জাতির স্বাভাবিক বিদ্বেষ বহু পরিমাণে প্রশমিত করিয়াছিল। চৈতন্য প্রচারিত বৈষ্ণবধর্ম্ম স্বীয় সাম্যনীতি প্রণোদিত হইয়া অনার্য্যগণকে নিজ ক্রোড়ে স্থান দান করিয়াছিল। জাহ্নবী তীরে যে নীতির বিকাশে দিগন্ত মুখরিত করিয়া আনন্দময়ী-বাণী গাহিয়াছিল;—
“ও ভাই মেরেছিস্ তুই কলসীর কানা,
তাই বলে কি প্রেম দিব না।”