অর্থাৎ “বহুসংখ্যক সৈন্য বরাহভূমে প্রেরিত হইলে, কিছুদিনের জন্য বিবাদ থামিল; ও সর্দ্দারগণ তাহাদের দুর্গে প্রত্যবর্ত্তন করিল। কিন্তু তাহারা সময় সময় দুর্গ হইতে বাহির হইয়া নির্দ্দয়ভাবে রাজার জমীদারী লুণ্ঠন করিয়া থাকে।”
লালসিংহ সর্দ্দারগণের মধ্যে সর্ব্বাপেক্ষা বলশালী ও প্রবল ব্যক্তি। লালসিংহকে গ্রেপ্তার করিতে পারিলে, বরাহভূমে শান্তি সংস্থাপিত হইবার সুবিধা হইবে, বিবেচনা করিয়া ইংরাজ সরকার লালসিংহকে ধৃত করিয়া মেদিনীপুরে পাঠাইবার জন্য বার বার আদেশ পাঠাইলেন। কিন্তু লালসিংহকে কেহই গ্রেপ্তার করিতে সমর্থ হইলেন না। পূর্ব্বের ন্যায় লালসিংহ অব্যাহতভাবে আপনার ইপ্সিত পন্থার অনুসরণ করিতে লাগিলেন। ষ্ট্রাচি সাহেবের মন্তব্যের একাংশে আছে—
“Frequent orders were issued to the sebandies and the Police Daroga to seize Lalsing and his followers and to send them to Midnapur.”
অর্থাৎ “লালসিংহ ও তাঁহার অনুচরবর্গকে গ্রেপ্তার করিয়া মেদিনীপুরে পাঠাইয়া দিবার জন্য বারংবার সিপাহিগণ ও দারোগার উপর আদেশ দেওয়া হইয়াছিল।” কিন্তু দারোগার সাধ্য ছিল না যে লালসিংহকে গ্রেপ্তার করে। ষ্ট্রাচি সাহেব একস্থলে লিখিয়াছেন যে, দারোগাগণ চোয়াড়গণকে গ্রেপ্তার করা দূরে থাকুক, চোয়াড়গণের অনুগ্রহ ব্যতীত জীবন লইয়া ফিরিয়া আসিতে সমর্থ নহে।
শেষে লালসিংহকে গ্রেপ্তার করিয়া তাঁহাকে শাসন করার আশা ম্যাজিষ্ট্রেট সাহেব পরিত্যাগ করিলেন। পরন্তু লালসিংহ