করিবার জন্য পুলিশের প্রতি আদেশ প্রদত্ত হইয়াছিল। সুতরাং তাঁহার পূর্ব্বকৃত কার্য্যের জন্য ইংরাজ সরকার ক্ষমা প্রদর্শন না করিলে শান্তিসংস্থাপনকার্য্যে তাঁহার সাহায্য গ্রহণ করা সম্ভাবিত ছিল না। পরন্তু বরাহভূমের সামান্য কৃষক হইতে প্রধানতম ব্যক্তি পর্য্যন্ত রাজ-পরিবারের বিবাদে লিপ্ত থাকিয়া, অল্পাধিক আইনের মর্য্যাদা লঙ্ঘন করিয়াছিলেন। এক এক পক্ষাবলম্বন করিয়া তাঁহারা যে সকল কার্য্য করিয়াছিলেন, তাহার অধিকাংশই আইন অনুসারে দণ্ডনীয় ছিল। তাহাদের সকলকে দণ্ড দান করিয়া আইনের মর্য্যাদা রক্ষা করিতে হইলে, দেশে শান্তি স্থাপনের আশা সুদূরপরাহত হইয়া উঠিত। সুতরাং বর্তমান ক্ষেত্রে দণ্ডনীতির অনুসরণ করা রাজপুরুষগণ সমীচীন বলিয়া মনে করিলেন না। বাস্তবিক, দেশব্যাপী অশান্তির সময়ে প্রজাবর্গের অনুষ্ঠিত যাবতীয় কার্য্যের জন্য আইনের আশ্রয়ে প্রত্যেক অপরাধীকে দণ্ডিত করিবার চেষ্টা করিলে, শান্তিস্থাপন বিশেষ কষ্টসাধ্য হইয়া উঠে ৷ বিশেষতঃ এই দেশবাসীগণ ইতিপূর্ব্বে কখন নির্দ্দিষ্ট রাজ-শক্তির অধীন হয় নাই। আইনের দৃঢ় রজ্জু দ্বারা তাহাদিগকে বন্ধন করিতে হইলে তাহাদিগকে পূর্ব্বাচরিত কার্য্যের জন্য মার্জ্জনা করা ষ্ট্রাচি সাহেব সঙ্গত বলিয়া মনে করিলেন। এই সকল অবস্থা বিশেষভাবে পর্য্যালোচনা করিয়া ষ্ট্রাচি সাহেব লাটদরবারে মন্তব্য প্রেরণ করিলেন যে,—
“Independent of the number of persons concerned other obstacles exist which render it, I conceive, not advisable to proceed against the Choars of Burrabhum according to regular course of Law.”