বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:লাল সিংহ - হরিনাথ ঘোষ (১৯১৩).pdf/১১৯

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
চতুর্দ্দশ পরিচ্ছেদ।
১১১

 অর্থাৎ “এই ব্যাপারে লিপ্ত ব্যক্তিগণের সংখ্যাধিক্য ব্যতীত আরও অপর কারণ আছে যে জন্য আমি রীতিমত আইন অনুসারে চোয়াড়গণের বিরুদ্ধে কার্য্য করা যুক্তিসঙ্গত মনে করি না।”

 ইতিপূর্ব্বে সুদীর্ঘকাল ধরিয়া সর্দ্দারগণ অধীনস্থ চোয়াড়গণকে লইয়া স্বাধিকার রক্ষা ও পররাষ্ট্রপীড়ন সম্পন্ন করিতেছিলেন। চোয়াড়সৈন্যের নিয়মিত গঠনপ্রণালী ইতিপূর্ব্বে বর্ণিত হইয়াছে। সর্দ্দারগণ যে জাতীয়প্রতিপত্তিমূলে চোয়াড়গণের উপর প্রভুত্ব করিতেন, সেই জাতীয় প্রতিপত্তি চিরকালের জন্য নষ্ট হইবার এই প্রথম সোপান। চোয়াড়গণের উপর সর্দ্দারের চিরপরিচালিত প্রভুতা তখনও ক্ষুণ্ণ হয় নাই। তখনও চোয়াড়গণ সর্দ্দারের অঙ্গুলি নির্দ্দেশে অগ্নিতে প্রবেশ করিতে পারিত। কিন্তু ইংরাজ শক্তির অভ্যুদয়ে সর্দ্দার ও চোয়াড়গণের চিরাচরিত বীরত্ব প্রদর্শনের আর অবসর রহিল না। লালসিংহ বাহুবলে বহু রাজ্য আক্রমণ করিয়া নিজ অধিকারের বাহির হইতে বিস্তর সম্পত্তি অর্জ্জন করিতেন। সুতরাং চোয়াড়গণের নিকট হইতে আবশ্যকীয় ব্যয় নির্ব্বাহার্থ তাঁহাকে কখন অধিক অর্থের দাবি করিতে হয় নাই। বরং তাঁহার অধীনস্থ চোয়াড়গণ যুদ্ধে লব্ধ ও লুণ্ঠিত সম্পত্তির যে অংশ পাইত, তাহাতে তাহারা বিস্তর লাভ করিত। এইরূপ অবস্থায় চোয়াড়গণ লালসিংহের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধাবান ও অনুরক্ত হইয়া উঠিয়াছিল। লালসিংহের প্রতি তাহাদের অবিচলিত শ্রদ্ধা ও অনুরাগ না থাকিলে, লালসিংহ কখনই আপনার প্রতিভা প্রকাশের এতাদৃশ সুযোগ প্রাপ্ত হইতেন না। বীর-প্রকৃতি চোয়াড়গণ বীরসর্দ্দারের প্রতিভায় আপনাদিগকে গৌরবান্বিত মনে করিত। বিশেষতঃ ইংরাজজাতির বল, বুদ্ধি,